লস্কর লিঙ্কম্যান ছাত্রীকে জেরা করে দেগঙ্গা থেকে গ্রেফতার প্রথমবর্ষের আরও এক ছাত্র

গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতরা পাকিস্তান সহ বেশ কয়েকটি দেশের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে তথ্য আদান প্রদান করত এবং এখানকার একাধিক তরুণ-তরুণীকে দেশবিরোধী কাজে উদ্বুদ্ধ করত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : লস্কর ই তৈবার লিঙ্কম্যান সন্দেহে ধৃত বাদুরিয়ার কলেজ ছাত্রীকে জেরা করে দেগঙ্গা থেকে এক ছাত্রকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেগঙ্গা থানার হাঁদিপুর গ্রামে হানা দিয়ে মনাজিরুল ইসলাম মণ্ডল নামে প্রথমবর্ষের ওই ছাত্রকে গ্রেফতার করেন এসটিএফের গোয়েন্দারা।

    কলকাতা পুলিশের এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ছাত্রের বাবা রুহুল আমিন ইসলাম স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। ওই ছাত্রের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত ছাত্রী তানিয়া পারভিন ও মনাজিরুল যে পাকিস্তান সহ বেশ কয়েকটি দেশের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে তথ্য আদান প্রদান করত এবং এখানকার একাধিক তরুণ-তরুণীকে দেশবিরোধী কাজে উদ্বুদ্ধ করত, সে ব্যাপারে একাধিক তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তানিয়া ও মনাজিরুলকে এরজন্য ম্যারাথন জেরা করা হচ্ছে।

    বুধবার গভীর রাতে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবারই বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয় বাদুড়িয়ার বাড়ি থেকে গ্রেফতার ২১ বছরের তরুণী তানিয়া পারভিনকে। আদালত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ার পরেই ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসে এসটিএফ। তানিয়াকে জেরা করেই খোঁজ মেলে মনাজিরুল ইসলাম মণ্ডলের। তানিয়া ও মনাজিরুল একই কলেজের ছাত্রছাত্রী।

    বছরখানেক ধরে তানিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন নজরে এসেছিল অর্থমন্ত্রকের। বিদেশ থেকে আসা এই বিপুল অর্থের উৎস খুঁজতে যোগাযোগ করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে। শুরু হয় নজরদাবি। তাঁর সম্পর্কে পুরো তথ্য পাওয়ার পরেই কলকাতা পুলিশের এসটিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এরপরেই লস্কর-ই-তৈবার লিঙ্কম্যান সন্দেহে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয বসিরহাটের তরুণী তানিয়া পারভিনকে।

    গোয়েন্দারা জানতে পারেন, বাদুরিয়ার বাড়িতে বসে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে এলাকার মুসলিম যুবক যুবতীদের জঙ্গি কার্যকলাপে উদ্বুদ্ধ করত তানিযা। এই কাজের জন্য বেশ কয়েকবার কাশ্মীর ও দিল্লিতেও গেছিল এই তরুণী। বার কয়েক গেছে মুম্বইতেও। দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে পাকিস্তান সব বেশ কিছু দেশের সঙ্গে ওই তরুণীর যোগাযোগের কথা জানতে পারেন গোয়েন্দারা। ধৃতদের বিরুদ্ধে ১২১এ, ১২৪এ  ১২০বি, ৪১০/৪২০ সহ কয়েকটি ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা, ষড়যন্ত্র, অসামাজিক কাজকর্মের মামলা রুজু করা হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More