ঝড়জলে দারুণ ক্ষতি, মাঠের অবশিষ্ট ধান গরু-মহিষকে খাওয়াচ্ছেন বর্ধমানের চাষিরা

ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে পুরো মাঠের ধানই নষ্ট হয়ে গেছে, যেটুকু আছে, তা তুলতে গেলে যে খরচ হবে তাতে পোষানো যাবে না। তাই গরু মহিষ মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন। অন্তত ওদের খাওয়ার খরচটাতো বাঁচুক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: লকডাউনের জেরে সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারেননি। এখন কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাঠেই নষ্ট হতে বসেছে ধান। হতাশায় ধানের জমিতে গবাদিপশু ছেড়ে দিয়ে পাকা ধান খাইয়ে দিচ্ছেন চাষিরা। সময় মতো হারভেস্টার মেশিন আসার অনুমতি দিলে এই হাল হত না তাঁদের এমনই দাবি এলাকার অধিকাংশ চাষিদের।

    শনিবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুষলধারা বৃষ্টির জেরে জমিতে এক হাঁটু করে জল দাঁড়িয়ে যায়। আর তার সঙ্গে দশ পনেরো মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে মাঠেই ঝরে পড়ে পাকা ধান। গোটা গলসি ১ নম্বর ব্লক জুড়েই একই ছবি। অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টিতে সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে গলসি ১ নম্বর ব্লকের উচ্চগ্রাম পঞ্চায়েতের গলিগ্রাম ও পোতনা পুরসা গ্রাম পঞ্চায়েতের রামপুর ও বন্দুটি। পাশাপাশি শিলাবৃষ্টিতে আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পোতনা, পুরসা, হরিপুর ও মনহরসুজাপুর, সিংপুর ও ভাসাপুর, সহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠের ধান। তাছাড়া জলে ডুবে গেছে গোটা গলসি এলাকার বেশিরভাগ ধানের জমিই। এখন যা অবস্থা তাতে মাঠের ফসল ঘরে তুলতে গেলে লাভ তো দূরের কথা, আরও ক্ষতির সম্ভাবনা। তাই কৃষকরা বাধ্য হয়েই মাঠের ফসল গরুকে খাইয়ে দিচ্ছেন।

    রামপুর গ্রামের চাষি শিশির ঘোষ বলেন, ‘‘লোক না পাওয়ায় সময়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারিনি। এখন ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে পুরো মাঠের ধানই নষ্ট হয়ে গেছে, যেটুকু আছে, তা তুলতে গেলে যে খরচ হবে তাতে পোষানো যাবে না। তাই গরু-মহিষ মাঠে নামিয়ে দিয়েছি। অন্তত ওদের খাওয়ার খরচটাতো বাঁচুক।’’

    আরেক চাষি শ্যামাপদ ঘোষ বলেন, সময়ে ধান তুলতে পারিনি। ঝড় জল এলে যে এমন হবে, জানাই ছিল। এখন সর্বসান্ত হয়েছি। সরকার কোনও খোঁজ নেয়নি আমাদের। যা ধান এখন মাঠে আছে তা তুলতে গেলে উল্টে খরচের ধাক্কা। তাই গরু-মোষ এসেই খাক ওই ধান।’’

    এ খবর জানার পরেই এলাকায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তা অরিন্দম দানা। এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেন এই প্রতিনিধিরা। চাষিরা তাঁদের জানান, ঋণ করে জমিতে বোরোধান চাষ করেছিলেন। এখন কী ভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, উপায় জানা নেই।

    গলসি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ প্রশান্ত লাহা বলেন, ‘‘পাঁচটা মৌজার ক্ষতি সর্বাধিক। গোটা এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সেই রিপোর্ট জেলায় পাঠানো হবে। সেখান থেকেই তা যাবে নবান্নে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব ও তাঁদের অসুবিধার কথা সবই রাজ্যস্তরে জানানো হবে।’’

    ঋণ করে চাষ করেন অধিকাংশ চাষি। প্রতিবছর ফসল উঠলে ঋণ শোধ করেন। বছরের সংসার খরচের একটা অংশ তুলে রাখেন। এবার কোনওটাই হল না। তাই মাথায় হাত তাঁদের। সরকারি সাহায্য আদৌ পাবেন কি না, তা নিয়েও সংশয়ে তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More