চন্দননগর-চুঁচুড়ার দুই সমকামী মেয়ের কাহিনী, একজনের পরিবার মেনে নিল, অন্যজনকে মারধর, সম্পর্ক ছিন্ন করলেন বাবা-মা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি : সমকামিতা আর অপরাধ নয়। এক বছর আগে মাইলফলক রায়ে তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

কিন্তু তাতে কি, সমাজ যে সেই তিমিরেই রয়েছে তা চন্দননগর-চুঁচুড়ার একটি ঘটনাতেই পরিষ্কার হয়ে গেল। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে হাতিয়ার করে জীবনটাকে অন্য পথে চালিত করতে চেয়েছিলেন দুই বন্ধু। একজনের পরিবার পাশে দাঁড়ালেও, অন্যজনের উপর চলে অকথ্য অত্যাচার। মুচলেকা লিখিয়ে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করে তাঁর পরিবার।

চন্দননগরের মৌটুসি সরকার আর চুঁচুড়ার প্রেয়সী ঘোষ (দু’জনেরই নাম পরিবর্তিত),- স্কুল জীবন থেকেই তারা হরিহর আত্মা। কখন যে সেই বন্ধুত্ব ভালবাসার রূপ নেয়, জানা ছিল না কারও। বর্তমানে দুজনেই কলেজ ছাত্রী। একে অপরকে ছেড়ে থাকতে পারেন না কোনওমতেই।

এরই মধ্যে মৌটুসির বাড়ি থেকে তাঁর বিয়ে ঠিক করা হয়। বাধ্য হয়েই মৌটুসি জানিয়ে দেন, প্রেয়সীকে ভালবাসেন তিনি। এবং তাঁর সঙ্গেই থাকতে চান। সমাজের কথা ভেবে বেঁকে বসে মৌটুসির পরিবার। অভিযোগ, এরপরেই শুরু হয় মারধর। বাড়িতে তালা বন্ধ করে রাখা হয় তাঁকে। কোনও মতে পালিয়ে গিয়ে কয়েকজন বন্ধুর সাহায্যে প্রেয়সীর সঙ্গে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করেন মৌটুসি।

বৃহস্পতিবার মৌটুসিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে উকিল ডেকে মুচলেকা লিখিয়ে তাঁকে ত্যাগ করে তাঁর পরিবার। মা-বাবার প্রতি অভিমান থাকলেও ভালোবাসার জনকে পেয়ে মহাখুশি তিনি। মৌটুসির পরিবার তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করলেও প্রেয়সীর পরিবার কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি। তাঁরা বাড়িতে নিয়ে যান প্রেয়সী ও মৌটুসিকে।

দুই ছাত্রীর দাবি, সমকামিতা কোনও অপরাধ নয়। তাঁদের সম্পর্কে শ্রদ্ধা আছে। ভালোবাসা আছে। আছে বিশ্বাসও। তাই এক সঙ্গে থাকার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন তাঁরা। তবে দুজনেই বাস্তবটা বুঝতে পারছেন। সামনে যে লড়াইটা অনেকটাই কঠিন, বুঝতে পারছেন তাও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More