পাঁচিল কাণ্ডের তদন্তে বিশ্বভারতীতে ইডির টিম, উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করলেন তিন সদস্য

বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁদের এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে কোনও কথা বলেননি তাঁরা। তবে জানা গিয়েছে ১৭ অগস্ট পৌষ মেলার মাঠ ঘেরাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছিল সেই ঘটনায় কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখতেই এদিন ইডির টিম এসেছিল বিশ্বভারতীতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: পাঁচিল কাণ্ডের তদন্তে বিশ্বভারতী ঘুরে গেল ইডির টিম। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে বারোটা নাগাদ এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের তিন সদস্যের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। প্রায় তিনঘণ্টা বিশ্বভারতীতে ছিলেন তাঁরা। কথা বলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী এবং অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে।

বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁদের এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে কোনও কথা বলেননি তাঁরা। তবে জানা গিয়েছে ১৭ অগস্ট পৌষ মেলার মাঠ ঘেরাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছিল সেই ঘটনায় কোনও আর্থিক লেনদেন জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখতেই এদিন ইডির টিম এসেছিল বিশ্বভারতীতে। উপাচার্যের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন তাঁরা।

পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল তোলা নিয়ে কিছুদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সংঘাতের  পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পাঁচিল তুলতে আসা ঠিকা সংস্থার কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে ব্যবসায়ী সমিতির লোকজনের বিরুদ্ধে। তারপরেও উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে পাঁচিল তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত ১৭ অগস্ট  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ওইদিন স্থানীয়দের বিক্ষোভ কার্যত তাণ্ডবে পরিণত হয়। তাঁরা পাঁচিল তোলার কাজ আটকে দেন বলে অভিযোগ। একটি গেটও ভাঙচুর করা হয়। তা ছাড়া পাঁচিলের জন্য মাটি কেটে গর্ত করা হয়েছিল। তাতেও মাটি ফেলে বুজিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। ঠিকা সংস্থার যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। নিপ্পন ভবন এবং বোলপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের অফিসের সামনের মেলার মাঠ ঘিরে দেওয়ার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল। এই কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ওখানে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পও তৈরি করা হয়েছিল। এদিন সেটিও ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বাধে বিশ্বভারতীতে।

উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বক্তব্য, গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনেই মেলার মাঠ ঘেরার প্রক্রিয়া শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়। তা নিয়ে চলে লোক জমায়েত, হুমকি ও ভাঙচুর। ঘটনার সিবিআই তদন্তও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ট্যুইট করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

পাঁচিল কাণ্ডের তদন্তেই বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতীতে পৌঁছয় ইডির তিন সদস্যের দল। তবে ইডির টিম কেন এই ঘটনার তদন্তে এল তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More