করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জেলাতেই চিকিৎসার ব্যবস্থা পূর্ব বর্ধমানে

জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, ‘‘এতদিন বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বামচাঁন্দাইপুরের যে বেসরকারি হাসপাতালকে প্রি কোভিড হাসপাতাল বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল, এখন থেকে আর প্রি কোভিড নয় ওই হাসপাতালেই করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করা হবে। যে হারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এ ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নেই।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জেলায় প্রতিদিনই একের পর এক শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ঢুকছে। নামছে পরিযায়ী শ্রমিকদের দল। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। তাই শেষমেশ পূর্ব বর্ধমানেই করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন।

    জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, ‘‘এতদিন বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বামচাঁন্দাইপুরের যে বেসরকারি হাসপাতালকে প্রি কোভিড হাসপাতাল বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল, এখন থেকে আর প্রি কোভিড নয় ওই হাসপাতালেই করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করা হবে। যে হারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এ ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নেই।’’

    ভিনরাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলায় ফিরতেই হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত দু’দিনে পূর্ব বর্ধমানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ জন। এবং এঁদের প্রত্যেকেই পরিযায়ী শ্রমিক। জেলায় ফেরার পর তাঁদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। রিপোর্ট আসলে দেখা যায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা।

    এতদিন ধরে বামচাঁন্দাইপুরে ওই বেসরকারি হাসপাতালে হাইলি সাসপেক্ট রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন রোগীদের লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছিল। রিপোর্ট পজিটিভ এলে পশ্চিম বর্ধমানে দুর্গাপুরের বেসরকারি কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছিল তাঁদের। এতদিন এভাবেই চলছিল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই। কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা শুরু হতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়তে থাকে। স্বাভাবিক ভাবেই দুর্গাপুরের ওই কোভিড হাসপাতালে বাড়তে থাকে রোগীদের চাপ। সেই চাপ কমাতেই তড়িঘড়ি বামচাঁন্দাইপুরে প্রি কোভিড হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতালে উন্নীত করা হচ্ছে।

    জেলাশাসক জানান ইতিমধ্যেই ২৫ টি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে পাঁচ হাজার ৬০০ জন পরিযায়ী শ্রমিক জেলায় ফিরেছেন। এর বাইরে বাস বা অন্যান্য ভাবেই বহু মানুষ ভিনরাজ্য থেকে জেলায় ফিরেছেন। সব নিয়ে ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষ ফিরে এসেছেন জেলায়। এখনও আরও ২৫ টি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন আসবে। তাই পরিকাঠামো তৈরি রাখতে হচ্ছে।

    জেলায় বর্তমানে ৩৬ টি কন্টেইনমেন্ট জোন আছে। ৪৩ টি কোয়ারেন্টিন সেন্টার চালু আছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার ২১৫ টি পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন স্কুলে আরও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চালু করা হচ্ছে।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More