দফায় দফায় বৈঠক, মাইকে প্রচার, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তৎপরতা দিঘা ও সুন্দরবনে

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পার্থ ঘোষ জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত ত্রিপল ও শুকনো খাবার মজুত করা হয়েছে। উপকূলের সমস্ত ব্লকগুলিতে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সুন্দরবনের উপকূলভাগের বাসিন্দাদেরও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো,পূর্ব মেদিনীপুর: ঘূর্ণিঝড় আমফান শক্তি বাড়াচ্ছে খবর মিলতেই তৎপরতা শুরু হয়ে গেল রাজ্যের উপকূলভাগে। সোমবার সকালে দিঘা থেকে ৯৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল ঝড়টি। আবহাওয়া দফতরের অনুমান ছিল, বুধবারই পশ্চিমবঙ্গের দিঘা উপকূল এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাবে সুপার সাইক্লোন আমফান। কিন্তু আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় এখন কলকাতা থেকে মাত্র ১০৬৭ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং দিঘা থেকে ৯৮০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে। গত ১২ ঘণ্টায় গতিপথ সামান্য বদল হওয়ায় যে এলাকায় এই ঝড় আছড়ে পড়ার কথা ছিল তাতে বদল আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দিঘার বদলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা। এই দুই এলাকাতেই চূড়ান্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

    হলদিয়া বন্দরে জাহাজ ঢোকা বন্ধ করল বন্দর কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় যে দশটি পণ্যবোঝাই জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে সেগুলিকে দ্রুত খালি করার কাজ চলছে। যেসব জাহাজ হলদিয়াতে ঢোকার কথা তাদেরও মাঝপথে আটকানো হয়েছে।  তিনটি ওয়েল জেটিকে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই মর্মে আজ জেলা প্রশাসনের সাথে জরুরি ভিত্তিতে একটি বৈঠক করা হয়।

    সোমবার সকাল দশটা থেকে এনডিআরএফের ৩৪ জনের একটি দল দিঘা ও লাগোয়া গ্রামগুলিতে মাইক নিয়ে জনগণকে সতর্ক করার কাজ শুরু করেন। একে করোনার আতঙ্ক, তার উপর ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, এই দুইয়ের মধ্যে পড়ে গ্রামবাসীরা যাতে বিচলিত না হন তারজন্য তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন এনডিআরএফ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের লোকজন। তাঁরা যাতে অযথা আতঙ্কিত না হন, সেই পরামর্শ যেমন দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি দুর্যোগের সময় কেউ যাতে বাড়ি থেকে বের না হন, সেই পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। কারও বাড়ি ভাঙাচোরা থাকলে এখনই স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোরও অনুরোধ করা হয়েছে।

    পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পার্থ ঘোষ জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত ত্রিপল ও শুকনো খাবার মজুত করা হয়েছে। উপকূলের সমস্ত ব্লকগুলিতে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘‘করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই যাতে  মানুষজন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে পারেন তারদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।’’

    দিঘা ,মন্দারমনি, শংকরপুর, তাজপুরেও চলছে মাইক নিয়ে প্রচার। যদিও পর্যটক শূন্য সৈকত শহর, তবুও কেউ যাতে সমুদ্রে নেমে পড়তে না পারে তারজন্য বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মৎসজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে বারণ করা হয়েছে।

    আমফানের ধাক্কা সামলাতে কী কী পদক্ষেপ করা হবে, তা  নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের মহকুমাশাসকের দফতরে আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাগরের বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানা,  সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বৈভব তিওয়ারি, ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল রক্ষীবাহিনীর আধিকারিক অভিজিৎ দাশগুপ্ত, কাকদ্বীপের মহকুমাশাসক শৌভিক চ্যাটার্জি সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরামবাবু বলেন, ‘‘প্রাণহানি রুখতে সুন্দরবন এলাকার উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া গোটা সুন্দরবন জুড়েই উপকূল অঞ্চলে মাইক নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে।’’

    সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, ‘‘কাকদ্বীপ-পাথরপ্রতিমা-রায়দিঘি এলাকার মৎস্যজীবীদের সমুদ্র যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়াও কোন কোন এলাকায় উপকূল রক্ষী বাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের সদস্যদের রাখা হবে, সেই সব এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’’

    সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও গোসাবাতে ইতিমধ্যেই এনডিআরএফের পাঁচটি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। ঘোড়ামারা, মৌসুনি আইল্যান্ড, জি-প্লট ও ছোট মোল্লাখালি আইল্যান্ডেও পৌঁছে গেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের চারটি টিম।

    শনিবার বিকেল থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন নজরে এসেছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। করোনা আতঙ্কের মধ্যেই নতুন দুর্যোগের আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে রয়েছেন রাজ্যের উপকূল এলাকার বাসিন্দারা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More