চারিদিকে ঘাসের জঙ্গল, ভেঙে পড়া গাছ, বদলে গেছে গড়চুমুক পর্যটন কেন্দ্রের ছবি

হাওড়া জেলা পরিষদের সহকারি সভাপতি অজয় ভট্টাচার্য জানান, কিছু জটিলতার জন্য পার্ক খোলা যাচ্ছে না। বন দফতরের অনুমতি নিয়ে ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ কাটার জন্য টেন্ডার করা হয়েছিল। কিছু ভুলের জন্য তা বাতিল হয়ে গেছে। আবার খুব শীঘ্রই টেন্ডার করা হবে। জঙ্গল পরিষ্কারের কাজও শুরু হবে।

২৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: আনলক-৫ পর্ব শুরু হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগেই। বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। এমনকি রাজ্যের চিড়িয়াখানাগুলিও খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাওড়া জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র গড়চুমুক মিনি জু ও ডিয়ার পার্ক এখনও পরিষ্কার করেই উঠতে পারল না হাওড়া জেলা পরিষদ । এখানে এখন চারিদিকে ঘাসের জঙ্গল। যার উচ্চতা প্রায় ৫ থেকে ৭ ফুট। ঘূর্ণিঝড় উমফানের দাপটে ভেঙে পড়া গাছগুলো এখনও সরানো হয়নি। বসার জায়গাগুলোতে লতা পাতার পুরু চাদর। গড়চুমুককে এখন আর পর্যটন কেন্দ্র নয়, এক ঝলকে দেখলে জঙ্গল বলেই মনে হবে।

দামোদর ও ভাগীরথী নদীর ধারে ১০৬ একর জমির উপর তৈরি করা হয় গড়চুমুক পর্যটন কেন্দ্র। সারা বছরই লেগে থাকতো পর্যটকদের আনাগোনা। বিশেষত শীতের সময় চড়ুইভাতি করতে ভিড় জমাতেন বহু মানুষ। সংলগ্ন মিনি চিড়িয়াখানা, ডিয়ার পার্ক, শিশু উদ্যান ছোটদের সারাদিনের মনের খোরাক হত। ময়ূর, কচ্ছপ, কুমির থেকে শুরু করে দেশী বিদেশী নানা প্রজাতির পাখি রয়েছে সেখানে। রয়েছে নানান  বন্যপ্রাণী। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ কুমির ও হরিণ।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন শুরু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় এই পর্যটন কেন্দ্র। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো ঘূর্ণিঝড় উমফান লন্ডভন্ড করে দেয় পর্যটন কেন্দ্রটিকে। শিশু, সেগুন, মেহগনি-সহ সাড়ে তিনশোর বেশি বড়বড় গাছ ভেঙে পড়ে ঝড়ে। সে সব এখনও সেভাবেই পড়ে রয়েছে। লম্বা লম্বা ঘাস ও আগাছার জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে চারিদিক। বেড়েছে সাপের উৎপাত।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এই পর্যটন কেন্দ্রের উপর নির্ভর করে তাঁদের ব্যবসা চালু ছিল। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ লকডাউনে বেঁচে থাকার রসদ সংগ্রহ করতে হিমসিম খেতে হয়েছে তাঁদের। রাজ্যের সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র আস্তে আস্তে খুলে যাওয়ায় আশায় ছিলেন তাঁরা। এই কেন্দ্রটিও হয়তো খুলে যাবে। কিন্তু তেমন কোনও উদ্যোগ দেখা না যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তাঁরা। এলাকার বাসিন্দাদেরও বক্তব্য, পার্ক খোলা থাকলে বাচ্চাদের নিয়ে পার্কে গিয়ে কিছুটা একঘেয়েমি কাটানো যেত। কিন্তু এখন তাও সম্ভব হচ্ছে ‌না।

হাওড়া জেলা পরিষদের সহকারি সভাপতি অজয় ভট্টাচার্য জানান, কিছু জটিলতার জন্য পার্ক খোলা যাচ্ছে না। বন দফতরের অনুমতি নিয়ে ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ কাটার জন্য টেন্ডার করা হয়েছিল। কিছু ভুলের জন্য তা বাতিল হয়ে গেছে। আবার খুব শীঘ্রই টেন্ডার করা হবে। জঙ্গল পরিষ্কারের কাজও শুরু হবে। পুজোর আগেই পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More