কখনও ধরছেন হাত, কখনও সাহস দিচ্ছেন, সারি ওয়ার্ডে বড় ভরসা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মুনমুন

হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘সবাই সাধ্যমতো কাজ করছেন। তার মধ্যে সারি ওয়ার্ডের ওই ঠিকা স্বাস্থ্যকর্মী দারুণভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আমরা ওঁকে নিয়ে গর্বিত।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে চেম্বার বন্ধ রেখেছেন অনেক চিকিৎসক। শহরের বেশিরভাগ প্যাথলজিক্যাল ল্যাব বন্ধ। অনেক নার্সিংহোম রোগী ভর্তি নেওয়াও বন্ধ রেখেছে। বেশকিছু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনা পজিটিভ হয়ে নিভৃতবাসে রয়েছেন। আবার অনেকেই নিভৃতবাসের পর ছুটি নিয়ে বাড়িতে রয়েছেন। ফলে হাসপাতালের সারি ওয়ার্ডে ঠিকমতো চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে না। কিন্তু করোনা ভীতি গ্রাস করতে পারেনি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রোজেক্ট কর্মী মুনমুন দাসকে। সারি ওয়ার্ড খোলার দিন থেকেই তিনি সেখানে ডিউটি করছেন। একদিনও ছুটি নেননি। তাঁর কাজের প্রশংসা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। করোনা যুদ্ধে তিনি একেবারে সামনে থেকে লড়াই করছেন। করোনা ভীতি তাঁর কাজের ক্ষেত্রকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করতে পারেনি।

বর্ধমান শহরের সদরঘাট চাষমানা এলাকায় বাড়ি মুনমুনের। বছর তিনেক আগে তিনি হাসপাতালে কাজে যোগ দেন। আগে তিনি ক্যান্সার বিভাগে কাজ করতেন। হাসপাতালে সারি ওয়ার্ড চালু হওয়ার পর তাঁকে সেখানে আনা হয়। সারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখভাল করেন তিনি। তাঁরা যাতে মানসিকভাবে সবসময় চাঙ্গা থাকেন সেজন্য কাউন্সেলিংয়ের কাজটা তিনিই করেন। রোগীদের করোনার ভীতি কাটিয়ে কিভাবে সুস্থ হতে হবে সে ব্যাপারে বোঝান ।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা করোনা আক্রান্তদের স্পর্শ করেন না বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে। কিন্তু, মুনমুন এর ব্যতিক্রম। পরম স্নেহে রোগীদের দেখভাল করেন তিনি। রোগীদের সবকিছুর দিকে নজর তাঁর। সময়মতো রোগীরা খাবার পাচ্ছেন কিনা, ওষুধ ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে কিনা সবদিকেই নজর তাঁর। সারি ওয়ার্ড থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীদের হাসিমুখে পৌঁছে দেন তিনি। তাঁর সম্পর্কে রোগীদেরও কোনও অভিযোগ নেই।

করোনা সন্দেহে ভর্তি হওয়া রোগীদের দেখভাল করতে ভয় লাগে কি না জানতে চাওয়া হলে মুনমুন বলেন, ‘‘এই কঠিন সময়ে মানুষের সেবা করতে পেরে ভালো লাগছে। করোনা নিয়ে আমার কোনও আতঙ্ক নেই। মনের জোর এবং চিকিৎসায় যে করোনা রোগ সারে তা আমি রোগীদের বোঝাচ্ছি। ওয়ার্ডে রোগীদের পরিবারের কেউ থাকে না। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব অনেক বেশি। এখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের বেশিরভাগই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আমি তাঁদের সবসময় চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করি। করোনাকে জয় করতে মানসিক শক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বোঝাই।’’

হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘সবাই সাধ্যমতো কাজ করছেন। তার মধ্যে সারি ওয়ার্ডের ওই ঠিকা স্বাস্থ্যকর্মী দারুণভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আমরা ওঁকে নিয়ে গর্বিত।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More