মল্ল রাজপরিবারের সদস্যের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার, তীব্র চাঞ্চল্য বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে

দেহের পাশ থেকেই উদ্ধার একটি একনলা বন্দুক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া : মল্ল রাজপরিবারের এক সদস্যের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল বিষ্ণুপুরে।

    মল্ল রাজাদের রাজধানী হিসেবেই খ্যাতি মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরের। শনিবার সকালে সেই মল্ল রাজপরিবারের এক সদস্য সলিল সিংহ ঠাকুরের (৬২) গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণুপুর শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা। দেহের পাশ থেকে একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় রাজপরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের পাশ থেকে বন্দুক পাওয়া গেছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনও পারিবারিক অশান্তি বা মানসিক অবসাদে রাজপরিবারের এই সদস্য আত্মঘাতী হয়েছেন কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, স্ত্রী,এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে সলিলবাবুর। কন্যার বিয়ে হয়ে গেছে। পুত্রও প্রতিষ্ঠিত। সলিলবাবুর চার ভাইয়ের মধ্যে বাকি তিন ভাই আগেই মারা গেছেন। বর্তমানে ভাইপোদের নিয়ে তিনিই এস্টেট দেখাশোনা করতেন।

    সলিল সিংহ ঠাকুরের বন্ধু কনকজ্যোতি দাস জানান, প্রায় প্রতিদিনই রাজ পরিবারের মন্দিরে মাতৃমূর্তি দর্শন করতে আসেন তিনি। তখন দেখা হয় সলিলবাবুর সঙ্গে। তিনি বলেন,‘‘ প্রায় ৪০ বছরের সম্পর্ক আমাদের। গতকালও মন্দিরে আসার পর দেখা হয়েছিল ওঁর সঙ্গে। সামান্য কথাবার্তা হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে হাঁটুর যন্ত্রণায় ভুগছিলেন এবং তার থেকে একটা মানসিক অবসাদ তৈরি হয়েছিল বলে মনে হত। তবে ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল তা বোঝার ক্ষমতা আমার নেই। সকালে খবর শুনেই চলে আসি। ওঁর স্ত্রী রানিমার সঙ্গেও দেখা করেছি। পুলিশ সব তদন্ত করে দেখুক।’’

    স্থানীয় কাউন্সিলর শ্রীকান্ত ব্যানার্জি বলেন, ‘‘সকাল আটটা নাগাদ রাজ পরিবারে এমন অঘটন ঘটেছে বলে খবর পাই।  সঙ্গে সঙ্গে চলে আসি। থানার আইসিকে ফোন করি। পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে চলে আসেন।’’ তবে তিনিও বুঝে উঠতে পারছেন না ঠিক কী কারণে রাজপরিবারের এই সদস্যের এমন মৃত্যু হল।

    ঐতিহ্যশালী এই রাজপরিবারকে নিয়ে এখন গর্বিত গোটা বিষ্ণুপুরের মানুষ। সেই রাজপরিবারের এক সদস্যের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা মেন‌ে নিতে পারছেন না শহরবাসী। পুলিশ তদন্ত করে এর কারণ বের করুক এটাই দাবি তাঁদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More