করোনা আতঙ্কে হার্টের অসুখে মৃতার দেহও দাহ করতে দিলেন না বাসিন্দারা

বেঙ্গালুরুর নার্সিংহোমে ২৮ তারিখ মারা যান হেড়িয়ার বাসিন্দা, গ্রামে ফিরে শ্মশানে দাহ করতে যেতেই বাধা দেন এলাকার মানুষ

১১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। কোনও ভাইরাস সংক্রমণের উল্লেখই নেই। তা সত্ত্বেও করোনা আতঙ্কে দাহ করতে বাধা। মৃতার দেহ নিয়ে এক শ্মশান থেকে অন্য শ্মশানে ঘুরছেন তাঁর সন্তানরা। খবর পেয়ে মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ–সহ অ্যাম্বুল্যান্স থানায় নিয়ে আসে।

চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন বেঙ্গালুরু। সেখানে একটি নার্সিংহোমে ২৮ তারিখ দুপুরে মৃত্যু হয় খড়্গপুর এক নম্বর ব্লকের হেড়িয়াতারার বাসিন্দা মীরা মাহাতোর (৪৫)। তাঁর ছেলে রাজু মাহাতো জানান, হার্টের অসুখ ছিল মীরাদেবীর। চিকিৎসার জন্য ১৯ মার্চ তিনি ও তাঁর বোন তাঁদের মাকে নিয়ে বেঙ্গালুরু যান। সেখানে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। মীরাদেবীর মৃত্যুর পর নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে সৎকারের জন্য দেহ নিজের রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলেন।

রাজু বলেন, ‘‘ওই রাজ্যের একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করেই মায়ের দেহ নিয়ে আসি আমরা। কিন্তু বাড়িতে ফিরে দাহ করার ব্যবস্থা করতেই বাধা দেয় আমাদের গ্রামের লোক। তাঁরা বলেন, বাইরে থেকে দেহ এসেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কি না, তা কেউ জানেন না। তাই গ্রামের শ্মশানে দেহ দাহ করা যাবে না।’’

তাঁদের বাধায় সেখানে দাহ করতে না পেরে ওই মহিলার দেহ নিয়ে মেদিনীপুর শহরের পদ্মাবতী শ্মশানঘাটে আসেন তাঁর সন্তানরা। কিন্তু লোকমুখে খবর পেয়ে সেখানেও ভিড় করেন মানুষ। পদ্মাবতী শ্মশানে দেহ দাহ করা যাবে না বলে চিৎকার শুরু করেন তাঁরা। বাধ্য হয়েই সেখান থেকেও ফিরতে হয়। খবর পেয়ে পদ্মাবতী শ্মশানে পৌঁছয় পুলিশ। অ্যাম্বুল্যান্স-সহ দেহ নিয়ে সোজা কোতোয়ালি থানায় চলে যায় পুলিশ। এখন কোতোয়ালি থানার সামনেই পড়ে রয়েছে দেহ।

২৪ মার্চ দমদমের বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত প্রৌঢ়ের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ দাহ করা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল তুমুল অশান্তি। নিমতলা ঘাটে দাহ করতে নিয়ে যাওয়া হলে বাধা দিয়েছিলেন এলাকার মানুষ। পুলিশ ও পুরসভার কর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেন। এক্ষেত্রে এই মৃত্যুর সঙ্গে করোনার কোনও সংশ্রব না থাকলেও, শুধুমাত্র আতঙ্কেই দেহ দাহ করতে বাধা দেওয়া হয়। এখন কোতোয়ালি থানার সামনেই অপেক্ষায় মীরাদেবীর সন্তান ও স্বজনরা। পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More