করোনা আতঙ্কে বাপের বাড়িতে ঠাঁই হল না মেয়ের, স্বামী-কন্যা সহ ফিরে যেতে হল শ্বশুরবাড়ি

সাত মাসের মেয়েকে নিয়ে সাইকেলে চেপে ঝাড়গ্রাম থেকে পুরুলিয়া যাচ্ছিলেন দম্পতি। সাহায্যের হাত বাড়াল ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: করোনা আতঙ্কে বাপের বাড়ি আসা মেয়েকে ঠাঁই দি‌ল না গ্রামের লোক। সাত মাসের বাচ্চা নিয়ে বরের সঙ্গে তুলে দিল সাইকেলে। সেই সাইকেলে চেপেই ঝাড়গ্রাম থেকে পুরুলিয়ায় শ্বশুরবাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিলেন দম্পতি। শেষপর্যন্ত অবশ্য সহৃদয় কিছু মানুষের সহযোগিতার জুটল অ্যাম্বুল্যান্স। তাতে করেই বাড়ির দিকে রওনা হলেন তাঁরা।

    করোনা আতঙ্ক তখনও চেপে বসেনি। পুরুলিয়ার আদ্রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার বাঁধভাঙা গ্রামে মাসির বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন সুস্মিতা হালদার। সঙ্গে বর ও সাতমাসের মেয়ে। দিনকয়েক সেখানে থাকার পর রবিবার সকালে পাশের গ্রাম সাগরভাঙায় বাপের বাড়ি চলে আসেন তাঁরা। আর বিপদ বাধে সেখানেই। সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের লোকজন একজোট হয়ে রুখে দাঁড়ায়। বাইরের লোককে গ্রামে ঢুকতে দেবেন না তাঁরা। সেই বাধার মুখে পড়ে বাড়ির লোকও আর সুস্মিতাকে ঘরে ঢোকানোর সাহস পায়নি। পত্রপাঠ তাঁদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এরপর শ্বশুরবাড়ি থেকে একটা সাইকেল জোগাড় করে বউ ও সাত মাসের মেয়েকে নিয়ে পুরুলিয়ার আদ্রায় নিজের বাড়ির দিকে রওনা হন সুস্মিতার বর অমিত হালদার।

    সাগরভাঙ্গা গ্রাম থেকে মেদিনীপুর শহরের গেটবাজার পর্যন্ত গিয়ে রাস্তার ধারে একটু জিরিয়ে নিতে বসেছিলেন তাঁরা। শুনশান রাস্তার ধারে তাঁদের বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকার দু-চারজন মানুষের। তাঁরা জানতে চাইলে গোটা বিষয়টি তাঁদের খুলে বলেন ওই দম্পতি। গেটবাজারেই অফিস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের। তাঁদের সদস্যরা এসে ওই দম্পতি ও তাঁদের শিশুর খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাঁদের বাড়ি ফেরার জন্য অন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে না পেরে ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাম্বুল্যান্সেই তুলে দেওয়া হয় তিনজনকে।

    সুস্মিতা বলেন, ‘‘পাড়ার মানুষ যাঁদের ছোট থেকে দেখে বড় হয়েছি তাঁদের চেহারা দেখে আজ অবাক হয়ে গেলাম। ভয় পাচ্ছেন সবাই, এটা ঠিক। কিন্তু তাই বলে ওরা একবারও ভাবল না একটা সাত মাসের বাচ্চা নিয়ে কীভাবে এতদূর যাব আমারা। এই অচেনা মানুষগুলো এমনভাবে পাশে দাঁড়াবেন ভাবতে পারিনি।’’ ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের ধন্যবাদ দেন তাঁর স্বামী অমিতও।

    সংগঠনের সদস্য রামু সিং বলেন, ‘‘গোটা দেশের বিপদ চলছে এখন। এই বিপদে মানুষের পাশে তো দাঁড়াতেই হবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More