করোনা আবহেই সাউন্ড বক্স বাজিয়ে বর্ধমানের সরকারি হাসপাতালে চলল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

অনাময় হাসপাতালের সুপার শকুন্তলা সরকার বলেন, ‘‘শুক্রবার সকালে এই বিষয়টা জানতে পেরেছি। তবে রোগীদের তরফে কোনও অভিযোগ পাইনি। তবুও আগামীদিনে যাতে এই কাজ না হয় সেই বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।’’

১৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনার আবহের মধ্যেই মাইক বাজিয়ে নাচগান হল বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি শাখা অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়। রাতে সেখানে রীতিমতো সাউন্ড বক্স বাজিয়ে চলে অনুষ্ঠান। কোভিডের আতঙ্কে জেরবার মানুষ। অনাময় হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীও কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে হাসপাতালের ভিতর এই অনুষ্ঠান কী ভাবে হয় সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি উইং অনাময় হাসপাতাল। এখানে প্রধানত হার্টের চিকিৎসা হয়। ভর্তি থাকেন রোগীরা। অনাময় হাসপাতালের কর্মীরা প্রতি বছরের মতো এবারেও বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করেছিলেন।  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে সাউণ্ড সিস্টেমে শুরু হয় গান। গায়ক গায়িকারা একাধিক গান পরিবেশন করেন।

তারপরেই প্রশ্ন ওঠে আয়োজকদের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে। হাসপাতালের চত্বরের মধ্যে কি এইভাবে গান-বাজনার আয়োজন করা যায়? সেই প্রশ্নই ঘুরছে। কোভিড পরিস্থিতিতে যেখানে সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল করা হচ্ছে সেখানে হাসপাতাল চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন কতটা কাণ্ডজ্ঞানহীন হলে করা যায় সেই প্রশ্নই তুলছেন ভর্তি থাকা রোগীদের পরিজনরা। হাসপাতালে ভর্তি থাকা মঙ্গলকোটের এক রোগীর আত্মীয় বলেন, ‘‘ভিতরে আমরা জোরে কথা বললে আমাদের বারণ করা হয়। কিন্তু কাল যেভাবে গানবাজনা হল তা কী করে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেল?’’ বর্ধমানের আলুডাঙার বাসিন্দা দেবু ঘোষ বলেন, ‘‘অনেক রোগীর পরিজন রাতে হাসপাতাল চত্বরে থাকেন, এই মাইক বাজানো নিয়ে তাঁরাও তিতিবিরক্ত।’’

যদিও ঘটনাকে বড় করে দেখতে নারাজ আনাময় হাসপাতালের কর্মীরা। তাঁরা বলেন, ‘‘বিশ্বকর্মা পুজোর পর সন্ধ্যায় কম সাউণ্ডে অনুষ্ঠান করা হয়। সন্ধ্যা আটটার মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়। রোগীদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’’ তবে অনাময় হাসপাতালের সুপার শকুন্তলা সরকার বলেন, ‘‘শুক্রবার সকালে এই বিষয়টা জানতে পেরেছি। তবে রোগীদের তরফে কোনও অভিযোগ পাইনি। তবুও আগামীদিনে যাতে এই কাজ না হয় সেই বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।’’

বিজেপি নেতা শুভম নিয়োগীর অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগেই রাতে জলসার আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা পরিষদের সহসভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, ‘‘এই ঘটনা সত্যি হলে তা চরম অন্যায়। খবর নিয়ে দেখা হবে। দোষীদের ছাড়া হবে না।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More