বন সহায়ক পদে আবেদনপত্র জমা দিতে কয়েক হাজার চাকরি প্রার্থীর ভিড় বর্ধমান শহরে, সামাজিক দূরত্ব শিকেয়

বিভাগীয় বনাধিকারিক দেবাশিস শর্মা বলেন, ‘‘প্রচুর লাইন হয়েছে। প্রচুর জমায়েত হয়েছে। সেজন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে। এজন্য বাক্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যেহেতু গোটা জেলার আবেদনপত্র বর্ধমানে জমা পড়ছে তাই ভিড় বেশি হচ্ছে। অনলাইনে না জমা নিয়ে সরাসরি জমা দেওয়ার পদ্ধতি গোটা রাজ্যেই চলছে। এটা দফতরের সিদ্ধান্ত।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বন সহায়ক পদে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার লম্বা লাইন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা বিধিকে।

কয়েকদিন আগে রাজ্যে বন দফতরের বিভিন্ন বিভাগে বনসহায়ক পদে লোক নেওয়ার আবেদনপত্র চাওয়া হয়। এই আবেদনের ভিত্তিতে দরখাস্ত বন দফতরের নির্দিষ্ট অফিসে জমা দিতে বলা হয়। নেওয়া হবে ২০০০ জনকে। বলা হয় অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণরা আবেদন করতে পারবেন এই পুরো অস্থায়ী পদে।

তারপরেই বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকা থেকে রমনাবাগানের বনাধিকারিকের দফতরে আবেদন জমা দিতে আসছেন কয়েক হাজার কর্মপ্রার্থী। এই অবস্থায় শিকেয় উঠেছে সামাজিক দূরত্ব বিধি। আগামীকাল লকডাউন গোটা রাজ্যে। তাই ফর্ম জমা নেওয়া হবে না। সে কারণে শেষ তারিখ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আরও বেশি ভিড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভাগীয় বনাধিকারিক দেবাশিস শর্মা বলেন, ‘‘প্রচুর লাইন হয়েছে। প্রচুর জমায়েত হয়েছে। সেজন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে। এজন্য বাক্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যেহেতু গোটা জেলার আবেদনপত্র বর্ধমানে জমা পড়ছে তাই ভিড় বেশি হচ্ছে। অনলাইনে না জমা নিয়ে সরাসরি জমা দেওয়ার পদ্ধতি গোটা রাজ্যেই চলছে। এটা দফতরের সিদ্ধান্ত।’’

এই করোনা পরিস্থিতিতে ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য এমন ভিড়ের খবরে জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, ‘‘এই বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’’গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলার আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে বর্ধমানের বাবুরবাগের রমনার বাগানে। এখানে জেলা বন আধিকারিকের কার্যালয়। জেলায় প্রতিদিনই হুহু করে বাড়ছে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। জেলাশাসক ইতিমধ্যেই গোটা জেলায় টানা লকডাউনের জন্য আবেদন করেছেন নবান্নে। সেই জায়গায় লম্বা লাইন দিয়ে কর্মপ্রার্থীরা আবেদন পত্র জমা দিচ্ছেন।

কাটোয়ার বাসিন্দা অমিত মুখার্জি বলেন, ‘‘কোভিডে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। বাস ঠিক মতো চলছে না। আমরা বেশ কয়েকজন গাড়ি ভাড়া করে আবেদন পত্র জমা দিতে এসেছি। যেখানে সংক্রমণ ঠেকাতে ভার্চুয়াল সভা বা মিটিং করা হচ্ছে সেখানে অনলাইনে আবেদন পত্র জমা না নিয়ে অফলাইনে কেন নেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না।’’

পূর্বস্থলী থেকে এসেছেন কবিতা সরকার। তিনিও গাড়ি ভাড়া করেছেন। গুসকরার বাসিন্দা সুদীপ্তা ব্যানার্জী বলেন, ‘‘বর্ধমান শহরে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা। অনেকেই বর্ধমান শহরে আসতে ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু আবেদন পত্র জমা দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়েই আসতে হল।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More