শহরে প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিস পেতেই রাজনীতি ভুলে হাতে হাত জলপাইগুড়ির তৃণমূল ও সিপিএম নেতার

বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি পুর এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম করোনা পজিটিভ রোগীর সন্ধান মেলে। আর এরপরই শুরু হয়  রাজনীতির রং ভুলে দুই যুব নেতার তৎপরতা। দফায় দফার দুই নেতা একসঙ্গে উপস্থিত থেকে ওই এলাকার প্রধান রাস্তা (বাফার জোন) স্যানিটাইজ করার কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে দমকল কর্মী ও সাফাই কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কন্টেইনমেন্ট জোনে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা যায় তাঁদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বছরভর বিভিন্ন সভা সমিতিতে একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তাঁরা। কারণ তাঁরা ভিন্ন শিবিরের লোক। কিন্তু এবার দরজায় মহামারী কড়া নাড়তেই দেখা গেলো অন্য ছবি। করোনা ঠেকাতে পথে নেমে একে অন্যের হাত ধরলেন জলপাইগুড়ির দুই যুযুধান যুবনেতা।

    জলপাইগুড়ি পুরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদীপ দে। তিনি সিপিএম দলের প্রতীকে নির্বাচিত। পাশাপাশি তিনি ডিওয়াইএফআই এর জলপাইগুড়ির জেলা সম্পাদক। অপরদিকে সৈকত চ্যাটার্জী ১১ নং ওয়ার্ড থেকে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল হিসাবে দায়িত্ব সামলে বর্তমান পুরবোর্ডের একজন প্রশাসক। পাশাপাশি তিনি যুব তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি।

    বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি পুর এলাকার ১০ নং ওয়ার্ডে প্রথম করোনা পজিটিভ রোগীর সন্ধান মেলে। আর এরপরই শুরু হয়  রাজনীতির রং ভুলে দুই যুব নেতার তৎপরতা। দফায় দফার দুই নেতা একসঙ্গে উপস্থিত থেকে ওই এলাকার প্রধান রাস্তা (বাফার জোন) স্যানিটাইজ করার কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে দমকল কর্মী ও সাফাই কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কন্টেইনমেন্ট জোনে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা যায় তাঁদের। আর এতে করোনা আতঙ্কের মধ্যেও খুশি এলাকার মানুষ।

    তৃণমূলের যুবনেতা সৈকত চ্যাটার্জী বলেন, ‘‘এখন দারুণ দুঃসময়। মানুষকে বাঁচানোই আসল কাজ। কে কোন দল করে, কার কী আদর্শ, সব ভুলে এখন মানুষকে বাঁচানোই আমাদের লক্ষ্য।’’ আর সিপিএমের যুবনেতা প্রদীপ দে বলেন, ‘‘যে কোনও ভাবে এখন মহামারী ঠেকাতেই হবে। এখন রাজনীতি করার সময় নয়। তাই আমরা দু’জন একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।’’

    এলাকার বাসিন্দা কলিনা দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘কোনও বিপদ এলে আমাদের শহরের সবাই এক হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এটাই আমাদের জলপাইগুড়ি শহরের কালচার। যা হারিয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু আজ এই সংকটে এইভাবে দুই দলের নেতাদের হাতে হাত রেখে কাজ করতে দেখে খুব ভালো লাগছে।’’ এলাকার আরেক প্রবীণ বাসিন্দা কিটি দাশগুপ্তর কথায়, ‘‘নিজেদের দলীয় অবস্থান ভুলে সবাই যদি এক হয়ে কাজ করে তবে এই দুর্যোগের মেঘ কাটবেই।’’

    ভোটের সময় ভোট বাদে সারাবছর মিলেমিশে থাকা, এটাই ছিল জলপাইগুড়ি শহরের সংস্কৃতি। শান্তিপ্রিয় শহর জলপাইগুড়িতে গত কয়েকবছর ধরে রাজনৈতিক হানাহানি সংক্রান্ত খবর লাগাতার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে যা শহরের সংস্কৃতির সঙ্গে বড়ই বেমানান। করোনার আবহে হারানো সংস্কৃতি ফিরতে দেখে স্বস্তি পেলেন শহরের বাসিন্দারা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More