সরকারি আধিকারিককে অন্ধকারে রেখে ৯০ লক্ষ টাকার টেন্ডার, পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ চাকদহে

পঞ্চায়েত সেক্রেটারি সরিয়তুল্লা আহমেদ জানান, দরপত্র ডাকার ব্যাপারটি তিনি জানেন না, ১৮ তারিখ দরপত্র ডাকা হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলেও তা জানানো হয়নি তাঁকে। তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি করে আগের তারিখ উল্লেখ করে ২১ তারিখ টাঙানো হয় দরপত্র। ১৮ তারিখ দরপত্রের উল্লেখ থাকলেও রেজিস্টারে ১৮ তারিখের কোনও উল্লেখ নেই। বিষয়টি আমার গোচরে আসতেই প্রতিবাদ করি। সে কারণে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’’

১৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: পঞ্চায়েত সেক্রেটারিকে অন্ধকারে রেখে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার দরপত্র আহ্বান নিয়ে দলের অন্দরেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠল চাকদহ ব্লকের শিলিন্দা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে। পঞ্চায়েত সেক্রেটারির অভিযোগ, এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে প্রধানের রোষের মুখে পড়তে হয়। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এই ঘটনায় প্রধানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ওই পঞ্চায়েতের উপপ্রধানও।

সিলিন্দা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুনা বিশ্বাস জানান, ফেব্রুয়ারির পর থেকে এলাকায় কোনও উন্নয়ন হয়নি কারণ, পঞ্চায়েতের কাজের ক্ষেত্রে কোনও দরপত্র ডাকেননি প্রধান। এই নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ ছিলই। হঠাৎ করে দলের অধিকাংশ সদস্যকে না জানিয়ে গোপনে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার দরপত্র ডাকেন পঞ্চায়েতের প্রধান রিনা হালদার। বিষয়টি নজরে আসতেই প্রতিবাদ করেন পঞ্চায়েত সেক্রেটারি সরিয়তুল্লা আহমেদ। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রী বারবার বলছেন কোনওরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন দুর্নীতির সাক্ষী হতে হচ্ছে আমাদের।’’

পঞ্চায়েত সেক্রেটারি সরিয়তুল্লা আহমেদ জানান, দরপত্র ডাকার ব্যাপারটি তিনি জানেন না, ১৮ তারিখ দরপত্র ডাকা হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলেও তা জানানো হয়নি তাঁকে। তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি করে আগের তারিখ উল্লেখ করে ২১ তারিখ টাঙানো হয় দরপত্র। ১৮ তারিখ দরপত্রের উল্লেখ থাকলেও রেজিস্টারে ১৮ তারিখের কোনও উল্লেখ নেই। বিষয়টি আমার গোচরে আসতেই প্রতিবাদ করি। সে কারণে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’’

নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার চাকদহ থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন সরিয়তুল্লা আহমেদ । অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, নিয়মমাফিক টেন্ডার না হওয়ায় তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এরই জেরে বৃহস্পতিবার চার-পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাঁর অফিসে ঢুকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই অবস্থায় নিরাপত্তার অভাববোধ করছেন তিনি। তাই তাঁকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার আবেদন জানান।

তবে শিলিন্দা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিনা হালদার বলেন, ‘‘টেন্ডার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনও বেআইনি কাজ হয়নি। মিথ্যা কথা বলছে উপপ্রধান।’’ উপপ্রধান রুনাদেবী বলেন, প্রধান বাড়িতে বসে টেন্ডার পেপারে সই করেছেন। কোনও মিটিং হয়নি। ই-টেন্ডার করবার কথা ছিল। কোনও নিয়ম তিনি মানেননি।’’

কল্যাণীর মহকুমাশাসক ধীমান বাড়ৈ বলেন, ‘‘বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ আসলে নিশ্চই খতিয়ে দেখা হবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More