শাড়ির গায়ে করোনা ভাইরাসের নকশা, মহালয়ার পর থেকেই বিক্রি বেড়ে গেছে শ্রীরামপুরের বিপণির

বিজ্ঞানীদের অনুবীক্ষণে ধরা পড়া এই মারণ ভাইরাসের নানান ছবি এখন আতঙ্কের আরেক নাম। তবে শাড়ির গায়ে সেই নকশা দেখে আবার মন ভুলল অনেকেরই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কোনও শাড়িতে লেখা ‘দো গজ কি দূরি-রহনা হ্যায় জরুরি’, কোনওটায় আবার ‘মাস্ক ছাড়া বাইরে নয়।’ বাঙালি ললনার অঙ্গ শোভায় এবার এমনভাবেই উপস্থিতি দুনিয়া কাঁপানো করোনা ভাইরাসের। বিজ্ঞানীদের অনুবীক্ষণে ধরা পড়া এই মারণ ভাইরাসের নানান ছবি এখন আতঙ্কের আরেক নাম। তবে শাড়ির গায়ে সেই নকশা দেখে আবার মন ভুলল অনেকেরই।

শ্রীরামপুরের একটি বুটিকের ডিজাইনাররা তৈরি করেছেন করোনা শাড়ি। নানান কিসিমের নকশায় এই মারণ ভাইরাসের ছবি উঠে এসেছে শাড়ির গায়ে। মার্চের শেষ থেকে করোনা রুখতে লকডাউন শুরু হয় দেশে। তারপর থেকেই থমকে গেছে অর্থনীতির চাকা। আনলক পর্বেও এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর মতো জায়গা তৈরি হয়নি। সার্বিক মনখারাপের মেঘ সর্বত্রই। তারমধ্যেই পুজো প্রায় এসে গেল। তবুও জৌলুস প্রায় শূন্যতেই।

এ সময় তুঙ্গে থাকে পুজোর প্রস্তুতি। পুজো কমিটিগুলির ব্যস্ততা, মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা, দোকানবাজারে নতুন পোশাক কেনার ভিড় সবমিলিয়ে রীতিমতো জমজমাট পরিবেশ। এবার কিন্তু সে ব্যস্ততার ছবি পুরোপুরি উধাও। বরং সর্বত্রই হাহাকার। এই পরিস্থিতিতেও শ্রীরামপুরের ওই বুটিকের ম্যানিকুইনের গায়ে জড়ানো করোনা শাড়ি নাকি ভিড় টানছে ভালই। শ্যাওড়াফুলি থেকে শাড়ি কিনতে এসেছিলেন শম্পা বসু। বললেন, ‘‘এতদিন করোনার সঙ্গে শুধুই আতঙ্ক জড়িয়েছিল। শাড়ির গায়ে এর নকশা কিন্তু বেশ ভালই লাগল। কিনেও ফেললাম বেশ কয়েকটা। অনেককেই তো দিতে হবে।’’ শ্রীরামপুরেরই এক কন্যা ট্রায়াল দিতে এসে একেবারে শাড়ি গায়ে জড়িয়ে রওনা হলেন বাড়ির পথে।

দোকানের মালিক শুভাশিস দে বলেন, ‘‘এবার করোনা পরিস্থিতিতে বছরভর মার খেয়েছে আমাদের ব্যবসা। প্রতিবছরই পুজোর সময় আমরা নতুন কিছু উদ্ভাবনের চেষ্টা করি। আবার আতঙ্কের করোনাকে নিয়েই নকশা ভাবি আমরা। মহালয়ার পর থেকেই দেখছি করোনা শাড়ি কিনতে আসছেন অনেকেই। ডিজাইনে খুশি ক্রেতারা।’’ তিনি জানান, ভাইরাসের নকশা শাড়িতে ব্যবহারের পাশাপাশি এর মাধ্যমে সামাজিক বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা। মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, এ সমস্তই শাড়িতে তুলে ধরা হয়েছে। পুজোর মরসুমে বাইরে বের হবেন অনেকেই। তাই সংক্রমণ বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা। শাড়িতে ঘোষিত বার্তা কিছুটাও যদি সচেতন করে মানুষকে, সেটাও হবে বাড়তি পাওনা।

এই সুযোগে করোনার বিরুদ্ধে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন যাঁরা, তাঁদের প্রতিও সম্মান জানাতে করোনা যোদ্ধাদের হাতে পাঁচ শতাংশ কম দামে করোনা শাড়ি তুলে দিচ্ছে এই বিপণি।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More