ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা, বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা, চিন্তিত প্রশাসন

পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা শুরু হতেই গ্রিন জোন পুরুলিয়াতেও এবার করোনার থাবা। রঘুনাথপুর ১ ব্লকের আদ্রায় পরিযায়ী শ্রমিকদের লালারস পরীক্ষা করা হয়। তারপরেই জানা যায় এক শ্রমিক করোনা আক্রান্ত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরমুখী পরিযায়ী শ্রমিকের ঢল কি করোনা আবহ আরও জটিল করে তুলছে? রাজ্যের একাধিক জেলার পরিস্থিতি অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে পূর্ব বর্ধমানে। লকডাউন শিথিল হতেই রাস্তায় যানবাহনের দাপট বেড়েছে। দোকানপাট খুলতেই সেখানেও মানুষের ভিড় বাড়ছে। পাশাপাশি জেলায় প্রতিদিনই ঢুকছে পরিযায়ী শ্রমিকের দল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখার বদলে পরিযায়ী শ্রমিকদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়ে দায় সারছে প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আট জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে পূর্ব বর্ধমানে। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই পরিযায়ী শ্রমিক।

    জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানান, বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগরের বেলপুকুরে একজন আক্রান্ত হয়েছেন। রায়নার আলমপুরে একজন ও মেমারির বিজরায় দু’জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ভাতারের কালিপাহাড়িতে বাবা মায়ের সঙ্গে ফেরা দু’বছরের এক শিশু রয়েছে বলে জানান তিনি। কালনাতেও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের দুর্গাপরের বেসরকারি কোডিভ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলায় ঢুকতেই যে হারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে রীতিমত আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। চিন্তার ভাঁজ জেলা প্রশাসনের কপালেও।
    পরিযায়ী শ্রমিকের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ভাবাচ্ছে নদিয়া জেলার প্রশাসনকেও। বুধবার নতুন করে জেলায় বারোজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী কৃষ্ণনগর এক নম্বর ব্লকে তিনজন, রানাঘাট দু নম্বর ব্লকের তিনজন, হাঁসখালি ব্লকের একজন, কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের একজন, হরিণঘাটা ব্লকের একজন, চাকদহ ব্লকের একজন এবং কালিগঞ্জ ব্লকের একজনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। রানাঘাট দুনম্বর ব্লকে যাঁদের করোনা ধরা পড়েছে তাদের অধিকাংশই পরিযায়ী শ্রমিক।

    পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা শুরু হতেই গ্রিন জোন পুরুলিয়াতেও এবার করোনার থাবা। রঘুনাথপুর ১ ব্লকের আদ্রায় পরিযায়ী শ্রমিকদের লালারস পরীক্ষা করা হয়। তারপরেই জানা যায় এক শ্রমিক করোনা আক্রান্ত।মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের কাছে ওই রিপোর্ট আসার পর বুধবার সকালে বিষয়টি সরকারি ভাবে জানানো হয়।
    গত ১৯ মে ওই শ্রমিক মহারাষ্ট্র থেকে ট্রাকে চেপে ঝাড়খণ্ড পৌঁছন। সেখান থেকে তিনি হাঁটা পথে জেলায় এসেছিলেন বলে জানা গেছে। সূত্রের খবর ১৯ মে তাঁর লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রিপোর্ট সন্দেহজনক হওয়ায় ফের ২৫ মে লালারস সংগ্রহ করে মেদিনীপুর পাঠানো হয়েছিল। ওই শ্রমিকের সংস্পর্শে আসা আরও তিনজনকে আপাতত কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More