নাটকের শহর বালুরঘাটে রাজ্য সরকারের নাট্যমেলায় ডাক পেল না ‘ত্রিতীর্থ’

ঐতিহ্যের নাট্যদলগুলি আমন্ত্রণ পত্র না পাওয়ায় উৎসব বয়কটের পথে শহরের বহু নাট্যকর্মী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নাট্য আকাদেমি পরিচালিত নাট্যমেলার উদ্বোধন হল বালুরঘাট শহরে। কিন্তু নাটকের শহরে ঐতিহ্যের নাট্যদলগুলি সেখানে ব্রাত্য বলে অভিযোগ উঠেছে। ত্রিতীর্থের প্রাণপুরুষ হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও গর্ব আর অহঙ্কারের ত্রিতীর্থ নাট্য সংস্থাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।

    বালুরঘাট শহরে নাটকের ইতিহাস প্রায় একশো বছরের। সেই একশো বছরের ইতিহাসের সাক্ষী বালুরঘাটের নাট্যমন্দির। বুধবার সন্ধ্যায় এখানেই শুরু হল নাট্যমেলা। পাঁচদিনের এই মেলায় নাটক মঞ্চস্থ করবে কলকাতার প্রথম সারির নাট্যদলগুলি। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পয়লা মার্চ পাঁচদিনে ছ’টি নাটক পরিবেশিত হবে। প্রথমদিন পরিবেশিত হয় নাট্য ব্যক্তিত্ব অশোক মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় থিয়েটার ওয়ার্কশপ এর নাটক ‘দীর্ঘদিন দগ্ধরাত’।

    সাড়ম্বরে উদ্বোধন হওয়া সেই নাট্যমেলাকে ঘিরেই জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কেননা নাট্যমেলায় শহরের অধিকাংশ নাট্যদলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তার দল ত্রিতীর্থকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এরজন্য প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাট্যকর্মীরা। এই উৎসব বয়কট করছেন তাঁদের অনেকেই। সেই নাট্যকর্মীদের কথায়, “বালুরঘাট বলতেই প্রখ্যাত নাট্যকার হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসে। অথচ হরিমাধববাবুর ত্রিতীর্থ নাট্যদলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।”

    হরিমাধববাবু নিজে এ প্রসঙ্গে বলেন, “স্থানীয় নাটকের দলগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো উচিৎ ছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে নাট্যকর্মীদের আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহের মত পরিস্হিতি তৈরি করা না হলেই ভাল হত। আমার দল ত্রিতীর্থকেও আমন্ত্রণ করা হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য একটি আমন্ত্রণপত্র বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তবে শারীরিক কারণে আমি নাট্যমেলায় যাব না।”

    বালুরঘাট শহরের প্রাচীন নাট্যসংস্থা ‘তূণির’ এর কর্ণধার জিষ্ণু নিয়োগী বলেন, “রাজনৈতিক দম্ভ কাজ করে এমন উৎসবে যাওয়ার মানসিকতা আমার নেই। নাটকের দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রয়োজন ছিল বলেই মনে হয়।  লাইনের দাঁড়িয়ে নাট্যমেলায় পাশ সংগ্রহ নিয়ে আপত্তি থাকায় অনেক নাট্যকর্মী পাঁচদিনের নাট্যমেলা বয়কট করছেন বলে শুনেছি।”

    তৃণমূলের জেলা সভাপতি এবং নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষ অবশ্য নাট্যকর্মীদের এই আবেগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, “অ্যাকাডেমির সদস্য অমিত সাহার কাছে জেনেছি যে, শহরের নাট্য দলগুলিকেও এবার কাউন্টারে এসে আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিবার নাট্যদলগুলিকে পাশ দেওয়া হলেও বেশিরভাগ লোকজনই দেখতে আসেন না। আগেরবার বহু আমন্ত্রণ পত্র নষ্ট হয়েছে। হলে যাতে আসন ফাঁকা না থাকে তার জন্যই এই পরিকল্পনা।”

    নাট্যদলগুলিতো বটেই, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বালুরঘাটের বিধায়ক বিশ্বনাথ চৌধুরী ও সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকেও আমন্ত্রণ জানানো না হওয়ায় নাটকের শহরে জোর বিতর্ক। বিশ্বনাথ চৌধুরী এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে না চাইলেও সুকান্তবাবু বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়। আমরা কিছু মনে করি না। আমরা জানি সরকার একটি নির্দিষ্ট দলের দাসে পরিণত হয়েছে। মানুষ সব দেখছে। তাঁরাই বিচার করবেন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More