ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা, করোনা রুখতে ডুয়ার্সের চা বাগানে কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইন হোম

চা বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টিকে সামনে রেখে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে চা বাগানের শ্রমিক সংগঠনগুলির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চা মালিকদের সংগঠন ও স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সমস্ত চা বাগানের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি জীবাণুমুক্ত করা হবে। এরপর স্কুল ও অঙ্গনওয়ারি সেন্টারগুলিতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: করোনা মোকাবিলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চা বাগানে চালু হচ্ছে কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইন হোম।

    শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালু হতেই জেলায় ফিরছেন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। এঁদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন চা বাগানের বাসিন্দা। বাগানে কাজ না থাকায় ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছিলেন কাজের খোঁজে। লকডাউন শুরু হওয়ার পর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরে ফিরছেন তাঁরা। আর তার জেরেই তৈরি হয়েছে সমস্যা। এরা থাকবে কোথায়? সমস্যা কাটাতে নতুন উদ্যোগ এই কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার।

    চা বাগানে থাকা হাসপাতাল, স্কুল বা অঙ্গনওয়ারি সেন্টারগুলিকে ভালভাবে স্যানিটাইজ করে সেখানেই বেড বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। যেখানেই রাখা হবে ভিনরাজ্যে ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকদের।

    চা বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টিকে সামনে রেখে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে চা বাগানের শ্রমিক সংগঠনগুলির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চা মালিকদের সংগঠন ও স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সমস্ত চা বাগানের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি জীবাণুমুক্ত করা হবে। এরপর স্কুল ও অঙ্গনওয়ারি সেন্টারগুলিতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হবে। সেই সেন্টারে পরিযায়ী শ্রমিক ও চা শ্রমিকরা থাকবেন। তাঁদের খাওয়াদাওয়া বিষয়টি বাগান কর্তৃপক্ষ দেখবেন। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিষয়টি নিয়ে নজরদারি চালাবেন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

    চা বাগানে হোম কোয়ারেন্টাইন ব্যাপারটি এতদিন ছিল অনেকটা সোনার পাথরবাটির মতো। কারণ শ্রমিকদের এক কামরার আস্তানায় পরিবারের লোকেদের নিয়ে হোম কোয়রেন্টাইন থাকা অসম্ভব ব্যাপার। এতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছিল। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসায় নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। ঠিক হয় চা বাগানের ভিতরে থাকা স্কুল ও অঙ্গনওয়ারি সেন্টারগুলিতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে তৈরি করা হবে।

    উত্তরবঙ্গের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায় বলেন, ‘‘চা বাগানের ছোট ঘরে পরিযায়ী শ্রমিকরা এসে ঢুকলে পরিবারে করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই আমরা সরকার নির্ধারিত ৫ রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক বাদে অন্য রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকার জন্য কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চালুর কথা জানিয়েছি। এতে সব পক্ষ রাজি হয়েছে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More