বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কাজ বন্ধ করলেন ঝাড়গ্রামের অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা, স্তব্ধ পরিষেবা

ঝাড়গ্রাম পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার তুষারকান্তি সৎপতি বলেন, ‘‘আমরা ওঁদের কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। পুর প্রশাসন ও সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই ওঁদের সমস্যার সমাধান করা হবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম : করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও  দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাঁরা আবর্জনামুক্ত রেখেছেন ঝাড়গ্রাম শহরকে। পুরসভার সেই অস্থায়ী সাফাই কর্মীরাই এবার বেতন বৃদ্ধির দাবিতে হঠাৎ করে মঙ্গলবার সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে দেন। এর ফলে সমস্যায় পড়েন শহরের মানুষ।

    অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের দাবি, করোনার মত পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তুলছেন তাঁরা। এই অবস্থায় তাঁদের যে পরিমাণ বেতন দেওয়া হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, পুর প্রশাসনকে বেতন বৃদ্ধির জন্য বারেবারে লিখিত আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাই তাঁরা এদিন হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ করে দেন।

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরকে আবর্জনা মুক্ত রাখার জন্য ১৮ জন অস্থায়ী সাফাই কর্মী রয়েছেন। তাঁরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আবর্জনা ভ্যাট থেকে তুলে পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলে। এছাড়াও শহরের নিকাশি নালাগুলি পরিষ্কার, পশুদেহ সরানো, এই কাজগুলিও করেন তাঁরা। এমন কিছু কর্মী রয়েছেন যাঁদের পুরসভার নির্দেশমতো পুর এলাকার অন্তর্গত কোনও কোনও বাড়ির শৌচাগার পরিষ্কার করতে হয়। অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা জানান, এই কাজের জন্য তাঁদের প্রতি মাসে কাউকে চার হাজার, কাউকে ৫২০০ টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। নিজে অসুস্থ হলে অথবা বাড়ির কেউ অসুস্থ হলে যদি   কাজে না যোগ দিতে না পারে তার জন্যেও বেতন কেটে নেওয়া হয় তাঁদের ।

    পুরসভার এই ১৮ জন অস্থায়ী সাফাই কর্মী বেতন বৃদ্ধি এবং তাঁদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে পিএফ কাটার আবেদন করে ৩০ জুন একটি দরখাস্ত জমা দিয়েছিলেন ঝাড়গ্রাম পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার তুষারকান্তি সৎপতির কাছে। এতে তাঁরা উল্লেখ করেছিলেন তাঁদের ন্যূনতম ১২ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হোক। এই টাকা থেকেই প্রতিমাসে তাঁদের পিএফ কাটা হোক। চিকিৎসার জন্যেও কিছু বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হোক।

    ঝাড়গ্রাম পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মী পুরাণ মুখী, সাগর মুখী, শিবু মুখী, বিশাল মুখী, বিশ্বজিৎ মুখীরা বলেন, ‘‘দিনরাত এক করে আমরা কাজ করে চলেছি। অথচ দিনের-পর-দিন বঞ্চনার শিকার হচ্ছি আমরা। পুরসভা থেকে আমাদের যে বেতন দেওয়া হয় তা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসার চালানো অসম্ভব।  অসুস্থ হয়ে পড়লে কাজে যোগ দিতে না পারলে তার জন্য বেতন কাটা হয়। আমাদের ১২ হাজার টাকা বেতন দিতে হবে এবং আমাদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে পিএফ কাটতে হবে। তাহলেই আমরা আবার কাজে যোগদান করব।’’

    ঝাড়গ্রাম পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার তুষারকান্তি সৎপতি বলেন, ‘‘আমরা ওঁদের কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। পুর প্রশাসন ও সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই ওঁদের সমস্যার সমাধান করা হবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More