গুলি বোমার শব্দে কেঁপে উঠল ক্যানিংয়ের ইটখোলা, জখম দু’পক্ষের ১০ জন

বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও এলাকা দখল নিয়ে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার রাত থেকে ফের তেতে ওঠে এলাকা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দু’দলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হল ক্যানিং। দফায় দফায় গুলি ও বোমাবাজিতে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন ১০ জন। এলাকায় চলছে পুলিশি টহল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও এলাকা দখল নিয়ে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার রাত থেকে ফের তেতে ওঠে এলাকা।

ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম মধুখালি চেটুয়া পাড়া এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় দু’দলের মধ্যে গুলিবৃষ্টি। চলে যথেচ্ছ বোমাবাজিও। গুলি বোমায় জখম হয় উভয় পক্ষের ১০জন। এদের মধ্যে একজন মহিলা। স্থানীয় মানুষজন আহতদের উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ক্যানিং থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোলের সুত্রপাত হয় বেশ কিছুদিন আগে। অভিযোগ সেই সময় মাদার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী মুছা সেখ, কার্তিক মণ্ডল, আবুল লস্কররা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের আতিয়ার লস্করকে বেধড়ক মারধর করে।

সোমবার রাতে ফের আতিয়ারের বাড়িতে চড়াও হয় মাদারের লোকজন। রাতের অন্ধকারে গন্ডগোল থেমে গেলেও মঙ্গলবার সকালে মুছা শেখ তার দলবল নিয়ে আতিয়ার লস্করের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পাশাপাশি এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি। গুলি চালানো হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের খেজে শেখ, হামিদ আলি মোল্লা, বাবু মণ্ডল-সহ ছ’জন গুরুতর জখম হয়েছেন। অন্যদিকে মাদার তৃণমুল কংগ্রেসের এক মহিলা- সহ চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন।

স্থানীয় ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান খতিব সরদার বলেন “কুলতলির মেরিগঞ্জ এলাকার বেশ কিছু দুষ্কৃতী আতিয়ার শেখের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করায় দুষ্কৃতীরা এলাকায় বোমাবাজি করে। গুলি চালায়। এক মহিলা সহ আমাদের চারজন কর্মী সমর্থক গুরুতর জখম হয়েছেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাদের ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”

অন্যদিকে ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ইন্দ্র সর্দার বলেন, “করোনার তাণ্ডবে জর্জরিত এলাকার মানুষ। তারপর উমফানের ক্ষতি। সাধারণ মানুষ সর্বসান্ত হয়ে গেছেন। তার উপরে এলাকার উপপ্রধান উমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা আত্মসাত করেছে। সাধারণ মানুষ সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে যুব তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। সেটা ভালো চোখে দেখছে না উপপ্রধান খতিব সরদার। এলাকায় কর্তৃত্ব কায়েম করার জন্য দুষ্কৃতীদের দিয়ে  গন্ডগোল পাকিয়ে যুব তৃণমূল কংগ্রেসকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে।”

ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল অবশ্য এই গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনার পিছনে রয়েছে বিজেপি এবং আরএসএস। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের কর্মী মিজানুর রহমানকে খুন করে এলাকা দখল করার চেষ্টা করে। এই সমস্ত বিজেপি ও আরএসএস দুষ্কৃতীদের ট্রেনিং হয় বাসন্তী থানার পালবাড়ি এলাকায়। সেখান থেকে এই গোলাবাড়ির মধুখালিতে এসে এলাকা দখলের চেষ্টা করছে।’’

তৃণমূল বিধায়কের এই অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির দক্ষিণ ২৪ পরগনা পূর্ব জেলার সম্পাদক সঞ্জয় নায়েক। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। তিনি বলেন, ‘‘এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, রাজ্যের সর্বস্তরে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল লেগেই রয়েছে। তার অধিকাংশই তোলাবাজিকে কেন্দ্র করে। নিজেদের ঘর সামলাতে না পেরে বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করে রাজনৈতিক ভাবে ফায়দা তুলতে চাইছে তৃণমূল।’’

এই সংঘর্ষের পর থেকেই শুরু হয়েছে ধরপাকড়। তাই এলাকা পুরুষশূন্য। গ্রামে চলছে চিরুনি তল্লাশি। অভিযান  চালিয়ে এ পর্যন্ত উভয়পক্ষের মোট ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বোমা-গুলির লড়াই থামলেও উত্তেজনা রয়েছে এখনও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More