বর্ধমান শহরে বৃদ্ধ খুনের ঘটনায় বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করল সিআইডি দল

এদিন সিআইডির দুই সদস্য ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞ শুভাশিস হালদার ও শৈবাল দত্ত শহরের তেজগঞ্জ স্কুলপাড়ার ওই  বাড়িতে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে তাঁরা বাড়ির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান শহরের তেজগঞ্জে বৃদ্ধ খুনের ঘটনার তদন্তে ভবানীভবন থেকে এল সিআইডি দল। বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ির ভিতর থেকে ওই বৃদ্ধের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আসবাব-সহ ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ করে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। চুরির উদ্দেশে ঘরে ঢোকার পর বাধা পেয়েই দুষ্কৃতীরা ওই বৃদ্ধকে খুন করে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

এদিন সিআইডির দুই সদস্য ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞ শুভাশিস হালদার ও শৈবাল দত্ত শহরের তেজগঞ্জ স্কুলপাড়ার ওই  বাড়িতে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে তাঁরা বাড়ির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন।এই বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায় বলেন, ‘‘বৃদ্ধ খুনের তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি ভবানী ভবনের সিআইডি দফতর থেকে আসা দু’জন বিশেষজ্ঞ এদিন নমুনা সংগ্রহ করেন।’’

বৃহস্পতিবার বিকাল নাগাদ বর্ধমান শহরের তেজগঞ্জ স্কুলপাড়া এলাকায় বাড়ির মধ্যেই খুন হন গোরাচাঁদ দত্ত (৮৪)। এদিন বাড়িতে একাই ছিলেন অশীতিপর ওই বৃদ্ধ। তাঁর স্ত্রী মীরা দত্ত জানান, এদিন সকালে তিনি শহরের জিলিপি বাগানে বোনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন বাড়ির সামনে বছর তিরিশের এক যুবক দাঁড়িয়ে রয়েছে। মীরাদেবী বলেন, ‘‘আমি ওই যুবককে চিনি না। তাকে ওখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জানতে চেয়েছিলাম কী হয়েছে? বলতেই ওই যুবক আমাকে বলে কী হয়েছে ঘরে ঢুকে দেখুন। তারপর হলুদ গেঞ্জি পড়া ওই যুবক চলে যায়।’’

বাড়িতে ঢুকে মীরাদেবী দেখেন, রক্তান্ত অবস্থায় উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছেন তাঁৱ স্বামী। তিনি বলেন, ‘‘টিভিটা দরজার সামনে টানা ছিল। আলমারি খোলা। বিছানা তছনছ। খাটের ঠিক নীচে পড়ে ছিলেন উনি। নিশ্চই কেউ চুরি করতে এসেছিল। বাধা দেওয়ায় ওকে খুন করে দিয়েছে।’’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বর্ধমান থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। জানা গেছে ওই বৃদ্ধের ছেলে কর্মসূত্রে দুর্গাপুরে থাকেন। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে ধানবাদে। এখানে বৃদ্ধ আর বৃদ্ধাই থাকতেন। ডিএসপি হেড কোয়ার্টার্স সৌভিক পাত্র বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টির তদন্ত চলছে। চুরি করতে এসে বাধা পেয়ে খুন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাও।’’

জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরেও ওই বৃদ্ধ খুন হতে পারেন। গোরাচাঁদবাবুর গ্রামের বাড়ি খণ্ডঘোষের তেলুয়ায়। দুর্গাপুরের ডিএসপিতে চাকরি করতেন তিনি। বর্ধমানে বাড়ি করেন। এই খুনের পিছনে সুপারি কিলারও থাকতে পারে বলে অনুমান। সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More