লকডাউনের মধ্যেই ভাতারে সরকারি প্রকল্পে বিলি হওয়া মুরগির বাচ্চা নিতে ভিড়, ক্ষোভ জানালেন বাসিন্দারা

বিধায়কের উদ্যোগে মুরগি বিলির অভিযোগ উঠল, তবে ফোন না ধরায় বিধায়কের বক্তব্য জানা যায়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনাভাইরাস রুখতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। সবাই যাতে লকডাউন মেনে চলেন, ঘরের বাইরে বের না হন, তারজন্য বারবার আবেদন জানাচ্ছে রাজ্যের প্রশাসনও। বন্ধ রাখা হয়েছে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত সরকারি কাজকর্ম। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশকে উপেক্ষা করে সরকারি প্রকল্পে মুরগির বাচ্চা বিলির অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার ব্লকে।

    একটি দু’টি গ্রামে নয়, ভাতার ব্লকের ৬ টি পঞ্চায়েত এলাকার ৭০ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে বৃহস্পতিবার ৫০ টি করে মুরগির বাচ্চা তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে এদিন ভাতার ব্লকের মাহাচান্দা, বড়বেলুন ২, নিত্যানন্দপুর, আমারুন ১, আমারুন ২, ও বলগোনা অঞ্চলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে এই মুরগির বাচ্চাগুলি তুলে দেওয়া হয়। মুরগির বাচ্চা নিতে রীতিমতো ভিড় করেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা। আর তা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।

    সরকারি প্রকল্পে মুরগির বাচ্চা বিলির বিষয়টি দেখে প্রাণিসম্পদ বিকাশ বিভাগ। ভাতার ব্লকের প্রাণিসম্পদ বিকাশ আধিকারিক শঙ্খ ঘোষ বলেন, ‘‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার কাছে এ নিয়ে কোনও সরকারি নির্দেশ ছিল না।”

    দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পুষ্টির জন্য প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতর থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির হাতে মুরগির বাচ্চা দেওয়া হয়। ডিম উৎপাদনের জন্যই আরআইআর প্রজাতির এই মুরগির বাচ্চা পালন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে লকডাউনের জন্য মুরগির বাচ্চা বিলি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশ অমান্য করে মুরগির বাচ্চা বিলি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।

    জানা গিয়েছে যে সংস্থাগুলি প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরকে মুরগির বাচ্চা সরবরাহ করে, তারা সাধারণত ১ থেকে ২৮ দিন বয়সের বাচ্চা সরবরাহ করতে চায়। কারণ এর বেশি বয়স হয়ে গেলে মুরগির বাচ্চাদের খাবার জোগাতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় সংস্থাকে। এবার ভাতারের ঘোলদা গ্রামের একটি সংস্থার কাছ থেকে মুরগির বাচ্চাগুলি নেওয়া হয় বলে জানা যায়। বরাত নেওয়ার পরেই লকডাউন হয়ে যায়। এদিকে মুরগির বাচ্চাগুলির বয়স বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ে যায় ওই সংস্থা। তাই দফতরের আধিকারিকের কাছে সেগুলি সরবরাহ করতে চেয়ে আবেদন জানায়। কিন্তু লকডাউনের জন্য দফতরের আধিকারিক সেই আবেদনে সাড়া দেননি।

    সূত্রের খবর, তারপরেই ওই সংস্থা ভাতারের বিধায়কের কাছে তদবির করে মুরগির বাচ্চাগুলি তাড়াতাড়ি বিলির ব্যবস্থা করার জন্য। এরপরেই ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা উদ্যোগী হয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মুরগির বাচ্চা বিলি করেন বলে অভিয়োগ। এ নিয়ে জানতে চেয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল।

    তবে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাঁড়া বলেন, ‘‘খবর পেয়েছি মুরগির বাচ্চা বিলি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝেই দিয়ে ফেলা হয়েছে। বলে দিয়েছি আর যেন এমন না হয়।’’

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More