মোবাইল সিম ফোর-জিতে পরিবর্তনের টোপ, হুগলির ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব ১০ লক্ষ

চুঁচুড়া থানা ও চন্দননগর পুলিশের সাইবার সেলে অভিযোগ জানিয়েছেন প্রতারিত ব্যবসায়ী। পুলিশ জানিয়েছে, খুব আঁটঘাট বেঁধেই এই প্রতারণা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: মোবাইলের সিম ফোর-জিতে পরিবর্তন করার নাম করে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণা! বুঝতে লেগে গেল দু’মাস। তারপরেই পুলিশের দ্বারস্থ প্রতারিত ব্যবসায়ী।

ব্যান্ডেল বালির মোড়ের বাসিন্দা সঞ্জয় ঘোষ। একটি ওয়াইন শপের মালিক তিনি। গত ২২ জুলাই সঞ্জয়বাবুর মোবাইলে একটি ফোন আসে। তাঁকে বলা হয় তাঁর সিমকার্ডটি ফোর-জিতে পরিবর্তন করতে হবে। অ্যাক্টিভেশনের জন্য কিছুক্ষণ বন্ধ রাখা হবে তাঁর মোবাইল ফোন। তাই বিকল্প কোনও মোবাইল নম্বর থাকলে তা চাওয়া হয়। সঞ্জয়বাবু তাঁর স্ত্রীর মোবাইল নম্বর দিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দুপুর নাগাদ তাঁর স্ত্রীর মোবাইলে একটি ফোন আসে। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের পরিচয় দিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় ওই ব্যাঙ্কে তাঁর কোনও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে কি না? সঞ্জয়বাবু বলেন, ব্যাঙ্কে গিয়ে খবর না নিয়ে বলতে পারবেন না। এদিকে দু’দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁর মোবাইল ফোনের সিম অ্যাকটিভ না হওয়ায় চিন্তায় পড়ে যান  সঞ্জয়বাবু। এলাকার একটি মোবাইল ফোনের দোকান থেকে আবার মোবাইলটি চালু করেন তিনি।

প্রায় দু’মাস পর ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর চুঁচুড়ায় যে বেসরকারি ব্যাঙ্কে তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেখানে যান সঞ্জয়বাবু। সেভিংস অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স চেক করতে গিয়ে দেখেন কোনও টাকাই নেই সেখানে। অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। কি ভাবে তাঁর টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হল তা জানতে চাইলে ব্যাঙ্ক জানায় অন লাইন ট্রানজাকশনের মাধ্যমে টাকা তোলা হয়েছে। এবং ঘটনাটি ঘটেছে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে, যখন তাঁর ফোনটি ফোর-জি অ্যাক্টিভেশনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই ব্যাঙ্ক থেকে লেনদেন হলে যে মেসেজ আসে তা পাননি তিনি।

সঞ্জয়বাবু বলেন, ‘‘ব্যাঙ্কের ওই শাখায় আমার কারেন্ট অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার থেকেই নিয়মিত লেনদেন হয়। কিন্তু সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে খুব একটা লেনদেন হয় না। আমার মোবাইলে ব্যাঙ্কের অ্যাপ ছিল। দু’মাস আগে মোবাইলে আসা ফোন, সিম ফোর-জি করার গল্পেই প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছিল। তখন বুঝতে পারিনি।’’

চুঁচুড়া থানা ও চন্দননগর পুলিশের সাইবার সেলে অভিযোগ জানিয়েছেন প্রতারিত সঞ্জয়বাবু। পুলিশ জানিয়েছে, খুব আঁটঘাট বেঁধেই এই প্রতারণা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More