দলের কর্মীদের উপর পুলিশি হেনস্থার অভিযোগে রাতভর হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সামনে ধর্না বিজেপি সাংসদের

বিজেপি কর্মীদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে বলে  অভিযোগ তুলে ধর্না কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকেন সাংসদ। রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যায়। তবুও ধর্না কর্মসূচি চলতেই থাকে। শেষপর্যন্ত ভোরের দিকে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয়কুমার দাস সাংসদের সঙ্গে দেখা করেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে শুক্রবার গভীর রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার গেটে ধর্নায় বসে পড়লেন উত্তর মালদহের বিজেপি সংসদ খগেন মুর্মু। সঙ্গে ছিলেন দলীয় কর্মী সমর্থকরা।

অভিযোগ, বিদ্যানন্দপুরের এক কংগ্রেস কর্মী কিছুদিন আগে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। তারপরেই তাঁর পরিবারের উপর পুলিশি হেনস্থা ও মিথ্যা কেস দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরমধ্যেই গতকাল সাংসদ বিদ্যানন্দপুরে যান। সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। সাংসদ জানান, তাঁদের অভিযোগ নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এমনকী সাংসদের ফোন কেটে দেন। এতেই সাংসদ খগেন মুর্মু ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ থানার সামনে আইসির সঙ্গে কথা বলতে দলীয় কর্মীদের নিয়ে সোজা হাজির হন। এবং থানার গেটের সামনে ধর্নায় বসে পড়েন।

থানার গেটের সামনে বসেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। বিজেপি কর্মীদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে বলে  অভিযোগ তুলে ধর্না কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকেন সাংসদ। রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যায়। তবুও ধর্না কর্মসূচি চলতেই থাকে। শেষপর্যন্ত ভোরের দিকে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয়কুমার দাস সাংসদের সঙ্গে দেখা করেন।

খগেনবাবু বলেন, ‘‘সম্প্রতি হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার দলীয় কর্মীদের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশ প্রশাসন মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। অযথা হয়রানি করছে। থানার সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন আইসি। আমরা এর বিচার চাই। আজ আমি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসির সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি আমাকে সময় দিতে চাননি।  আমি ফোন করলে কেটে দিচ্ছিলেন। আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। উনি এরকম করতে পারেন না। তাই থানার সামনে রাতভর ধর্না কর্মসূচি চালিয়েছি।’’

এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের শিশু নারী ও ত্রাণ কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেত্রী মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘‘গত পাঁচ মাস লকডাউনের সময় উত্তর মালদহের এমপিকে এলাকায় দেখা যায়নি। আজ তিনি এলাকায় এসেছেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এখানে অশান্তি করার জন্য। লকডাউনের সময় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সাধারণ দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ কর্মী। এখন সাংসদ খগেন মুর্মু স্বাস্থ্যবিধি কে উপেক্ষা করে থানার সামনে বসে পুলিশকে দোষারোপ করছেন।’’

এই প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More