স্বপ্নার বাড়িতে বন দফতরের অভিযানকে সমর্থন জানিয়ে বেকায়দায় বিজেপি, সাংসদ দেখা করলেন সোনাজয়ী অ্যাথলিটের সঙ্গে

ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা উত্তরবঙ্গে মোট মানুষের একটা বড় অংশ রাজবংশী সম্প্রদায়ের। গত লোকসভা ভোটে এঁদের সিংহভাগ ভোট বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ায় বিজেপির জয়জয়াকার হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে বন দফতরের অভিযানকে সমর্থন জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বিপাকে বিজেপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সাংসদকে পাঠিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা।

    গত ১৩ জুলাই জলপাইগুড়িতে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের নির্মিয়মান বাড়িতে বেআইনি ভাবে কাঠ মজুত রাখার অভিযোগে টিম নিয়ে অভিযান চালান বন দফতরের টাস্কফোর্সের প্রধান সঞ্জয় দত্ত। এরপর স্বপ্না বর্মনকে সেই কাঠের বৈধ কাগজ দেখানোর জন্য ৩০ দিনের নোটিস ধরানো হয়।

    স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে এই অভিযানের খবর সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। অর্জুন পুরষ্কার প্রাপ্ত সোনার মেয়ের বাড়িতে এই ধরনের অভিযান ভালো চোখে দেখেনি তৃণমূল। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এই ঘটনাকে এক বনাধিকারিকের সঙ্গে বিজেপির যোগাসাজসের ফল বলে অভিযোগ তুলে সংবাদপত্রে বিবৃতি দেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী। ঘটনার নিন্দা করে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী জানান, রাজবংশী সম্প্রদায়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র স্বপ্না বর্মন। তাঁর বাড়িতে এইভাবে অভিযান ঠিক নয়। আসলে রাজ্যের বেশ কিছু আধিকারিক বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা তার ফল। অবৈধ কাঠ মাফিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান না চালিয়ে এর বাড়িতে যাবার পিছনে বিজেপির অভিসন্ধি রয়েছে।

    অন্যদিকে ঘটনার পক্ষে বিবৃতি দেন বিজেপির জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামী।

    দুই নেতার বিবৃতি দিয়ে খবর ছাপে সংবাদ মাধ্যমে। এরপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয় রাজবংশী সমাজে। তার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেহেতু স্বপ্না রাজবংশী সম্প্রদায়ের মেয়ে, তাই তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করার জন্য তাঁর বাড়িতে বন দফতর অভিযান চালিয়েছে বলে রাজবংশী সমাজের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। গত কয়েকদিন ধরে স্বপ্নার বাড়িতে আসতে থাকে একের পর এক রাজবংশী প্রতিনিধি দল। তারা সবাই স্বপ্নার পক্ষে দাঁড়িয়ে বন দফতরের বিপক্ষে সওয়াল করতে থাকেন।

    এরপরেই বৃহস্পতিবার সকালে জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাক্তার জয়ন্তকুমার রায় রাজবংশী ক্ষত্রিয় সংগঠনের নেতা ধর্তিমোহন রায়কে সঙ্গে নিয়ে ছুটে যান। স্বপ্নার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আসার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান বিকেলে এ ব্যাপারে সাংবাদিক বৈঠক হবে বলে জানিয়ে বেরিয়ে যান বিজেপি সাংসদ।

    এরপর বিকেলে জলপাইগুড়ির ঐতিহ্য ভবনে বিজেপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপির জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামী। যদিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না সাংসদ। বাপী গোস্বামী বলেন, ‘‘সেদিন আমার কথা ভুল বিশ্লেষণ করে আমার মন্তব্য ছাপা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে তৃণমূল। আমাদের কথায় কি সরকার বা সরকারি আধিকারিকেরা চলেন? এরা সবাই চলে তৃণমূলের নির্দেশে। আসলে তৃণমূলের রাঘববোয়াল নেতারা কাঠ পাচারে যুক্ত। আমাদের কাছে তাদের তালিকা রয়েছে। তাদের আড়াল করতে বিজেপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে তৃণমূল।’’

    এরপর বাপী গোস্বামীকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল আপনি বন দফতরের পাশে দাঁড়ানোর পর আজ কী এমন হল যে আপনাদের সাংসদকে স্বপ্নার বাড়িতে যেতে হল?

    উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সাংসদ মাঝেমধ্যে তাঁর বাড়িতে যান। তাঁর বাড়ির এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বপ্না মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে একথা জানতে পেরেই সাংসদকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।’’

    ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা উত্তরবঙ্গে মোট মানুষের একটা বড় অংশ রাজবংশী সম্প্রদায়ের। গত লোকসভা ভোটে এঁদের সিংহভাগ ভোট বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ায় বিজেপির জয়জয়াকার হয়েছে। বিজেপি জেলা সভাপতির এ ধরনের বিবৃতিতে অস্বস্তিতে পড়ে দল। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতেই বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাক্তার জয়ন্ত কুমার রায় রাজবংশী ক্ষত্রিয় সংগঠনের নেতা ধর্তিমোহন রায়কে নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন স্বপ্নার বাড়িতে।

    এ দিকে আজই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্নাকে ফোন করে বন দফতরের দায়ের করা কেস তুলে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More