করোনার শঙ্কায় বাতিল একের পর এক ট্যুর, ক্ষতির হিসেব কষতে বসেছেন বর্ধমানের পর্যটন ব্যবসায়ীরা

সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া ট্যুর বাতিল হয়েছে কারও, কাউকে বাতিল করতে হয়েছে হিমাচল প্রদেশ ট্যুর, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা আতঙ্কে জেরবার মানুষ। পর্যটকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বিভিন্ন দেশে। তাই একরকম শিকেয় উঠল চলছে ভ্রমণ ব্যবসা। বর্ধমান শহরে ঝাঁপ বন্ধ প্রায় সমস্ত পর্যটন সংস্থার। কাজ ভুলে এখন ক্ষতির খতিয়ান হিসাব করছেন তাঁরা।

    শহরের ব্যবসায়ী বিক্রমাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ট্যুরের ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেন, “করোনার জেরে মার্চ মাসের শেষে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ক্রুজ সহ চারটি ট্যুর বাতিল করতে হয়েছে। অগ্রিম নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের। কিন্তু হোটেল থেকে বিমানের টিকিট যাবতীয় বুকিং সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ফলে নিজের পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।” তিনি জানান, মে মাসের মধ্যে আরও তিনটি ট্যুরের পরিকল্পনা হচ্ছিল, সেই পরিকল্পনাও আপাতত বাতিল করা হয়েছে।  আগামী পূজো পর্যন্ত কার্যত সব ট্যুর বাতিল হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে তাঁদের ক্ষতির অঙ্ক প্রায় চার লক্ষ টাকা।

    দেশে ও বিদেশে ট্যুরের আরেক ব্যবস্থাপক শান্তুনু পাঁজা জানান, তাঁকেও বেশকিছু ট্যুর বাতিল করতে হয়েছে। মার্চ ও এপ্রিলের মধ্যে দুবাই, থাইল্যাণ্ড ও সিঙ্গাপুরের ট্যুর বাতিল হয়েছে। এছাড়াও দেশের মধ্যে হিমাচল প্রদেশ ট্যুর বাতিল করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “গত ১৫ দিনে আমার অফিসে কেউ ট্যুর নিয়ে খোঁজখবর করতে আসেননি। আসেননি ট্রেন বা বিমানের টিকিট বুক করতে। তাই সোমবার থেকে অফিসের দুজন কর্মীকে আপাতত ছুটিতে পাঠিয়েছি। অফিস আপাতত বন্ধ। কারণ আগামী ৩ মাস সমস্ত ট্যুর বাতিল হয়েছে। মানুষ এই পরিস্থিতে বেড়াতে যেতে আগ্রহী নয়। তাই কর্মীদের কার্যত বসিয়ে মাইনে দিতে হচ্ছে।”

    বর্ধমান আরও এক ব্যবসায়ী সৌমাল্য রায় বলেন, “আতঙ্ক এতটাই গ্রাস করেছে যে, যেখানে করোনার তেমন আশঙ্কা নেই, যেখানেও যেতে ভয় পাচ্ছেন মানুষ। ফলে বিদেশ তো দূরের কথা, দিঘা, মন্দারমণি, কেরালা ট্যুরও বাতিল হচ্ছে। অক্টোবরের আগে ব্যবসার হাল ফেরা খুব কঠিন।”

    মার্চ এপ্রিল থেকেই কার্যত শুরু হয়ে যায় পর্যটন মরসুম।  ক্লাস টেন ও টুয়েলভের পরীক্ষা শেষ।  তারপরেই পাহাড় জঙ্গলের হাতছানিতে বেরিয়ে পড়েন অনেকেই। কারও আবার পছন্দ সমুদ্র। এই ভরা পর্যটন মরসুম এ বার করোনার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত। এখন তাই পুজোর দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তখন যদি কোনও মতে এই ক্ষতি পূরণ করা যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More