রোগীদের জন্য তৈরি খাবারের উদ্বৃত্ত দুঃস্থদের মধ্যে বিলি করতে চান বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ

হাসপাতালে সুপার প্রবীর সেনগুপ্তের কথায়,‘‘হয়তো কোনও একদিন শুধুমাত্র এক থালা ভাত এবং একটু তরকারি বেঁচে গেল। সেই খাবার দিয়েও তো অন্তত একজনের পেট ভরানো যায়। আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে রাস্তার পড়ে থাকা অভুক্ত মানুষদের কাছে ওই খাবার পৌঁছে দিতে চাই।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: উদ্বৃত্ত খাবার দুঃস্থদের মধ্যে দান করে দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে তাঁরা হাত বাড়িয়ে দিতে তৈরি।

ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য প্রতিদিনই রান্না হয় হাসপাতালের হেঁসেলে। চারবেলা রোগীদের খাবার দেওয়ার পরেও বেঁচে যায় অনেকটা পরিমাণ খাবার। তারমধ্যে যেমন রয়েছে ভাত-ডাল-মাছ-তরকারি, তেমনই রয়েছে ডিম দুধও। প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের খাবার খাইয়েও বেঁচে যায় অনেকটা পরিমাণ খাবারই। যা দিয়ে অনায়াসে পেট ভরতে পারে অন্তত ৫০ জন অভুক্ত মানুষের। তাই এই খাবার ফেলে না দিয়ে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে অভুক্ত মানুষদের দান করা যায় কি না সেই বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১২০০ থেকে ১৩০০ ভর্তি থাকেন এই হাসপাতালে।  বর্তমান কোভিড পরিস্থিতির জন্য এই সংখ্যা এখনও নেমে দাঁড়িয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ তে। রোগীদের নিয়ম করে খাবার সরবরাহ করার পরেও উদ্বৃত্ত থেকে যায় অনেকটা খাবার। হাসপাতালের নিয়ম অনুসারে দুপুরের খাবার রাতে দেওয়া যায় না। ফলে ওই খাবার কখনও হাসপাতাল চত্বরে থাকা ভবঘুরেদের দিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় অনেক দুঃস্থ রোগীর পরিজনদেরও খাবার দিয়ে দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে খাবার ফেলে দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই ব্যবস্থার বদল আনতে চাইছেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত। কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে হাসপাতালে উদ্বৃত্ত খাবার অভুক্তদের মুখে পৌঁছে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘হয়তো কোনও একদিন শুধুমাত্র এক থালা ভাত এবং একটু তরকারি বেঁচে গেল। সেই খাবার দিয়েও তো অন্তত একজনের পেট ভরানো যায়। আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে রাস্তার পড়ে থাকা অভুক্ত মানুষদের কাছে ওই খাবার পৌঁছে দিতে চাই। কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ ব্যাপারে এগিয়ে এলে যৌথভাবে বর্ধমান হাসপাতাল এই কাজ করতে চায়।’’

প্রবীরবাবু জানান, এই বিষয়টা নিয়ে অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনা চলছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যদি এই বিষয়ে আগ্রহী হন তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More