নৈহাটির বিস্ফোরণে বঙ্কিমচন্দ্রের চুঁচুড়ার বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত, ভাঙল জানলার কাচ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ভূমিকম্প, ঝড়ঝঞ্ঝা কম যায়নি। কিন্তু এমনভাবে ক্ষতির আঁচড় আগে লাগেনি। যত্নে-মর্যাদায় রক্ষণের চেষ্টা হয়েছে তাঁর স্মৃতিধন্য বাড়ি। সেই বন্দে মাতরম ভবনের গায়েও এসে পড়ল বিস্ফোরণের অভিঘাত। পুলিশের হেফাজতে থাকা বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল নৈহাটি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ক্ষয়ক্ষতি রোখা যায়নি গঙ্গার অপর পারে চুঁচুড়াতেও। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত বন্দেমাতরম ভবনের জানলার কাচও অক্ষত রইল না।

    নৈহাটির কাঁঠালবাগানে বাড়ি ছিল সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। তবে চুঁচুড়ার ম্যাজিস্ট্রেট থাকার সময় জোড়াঘাটের একটি বাড়িতে থাকতেন তিনি। গঙ্গা তীরবর্তী এই ভবনে বসেই দেশের স্বাধীনতার বীজমন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’ রচনা করেছিলেন তিনি। প্রকৃত সাল জানা না গেলেও ১৮৭৬ সাল লাগাদই এই গান তিনি লিখেছিলেন বলে ঐতিহাসিকদের অনুমান। কারণ পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে এই গানটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    সংস্কৃত ও বাংলা মিশ্র ভাষায় লেখা এই গানটিতে দেশ মা ও দেবী দুর্গার রূপ মিলেমিশে একাকার। শ্রীঅরবিন্দ ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে ‘বঙ্গদেশের জাতীয় সংগীত’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল সাহিত্যসম্রাটের লেখা এই গান। কারণ আনন্দমঠ উপন্যাস প্রকাশের পরবর্তী সময়ে জাতীয় ধ্বনিতে পরিণত হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম’। প্রথমে কলকাতা মহানগরীতে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক সমাবেশে ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি দেওয়া শুরু হয়েছিল। এই ধ্বনির তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ভীত হয়ে পড়েছিলেন ইংরেজ শাসকরা। তাই প্রকাশ্য এই ধ্বনি উচ্চারণ নিষিদ্ধ করা হয়। ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি দেওয়ার অপরাধে কত দেশভক্ত মানুষকে সে সময় অত্যাচারী বিদেশি শাসকদের রোষানলে পড়তে হয়েছিল তাঁর সম্পূর্ণ ইতিহাস হয়তো লেখা যায়নি।

    ১৮৯৬ সালে বিডন স্কোয়্যারে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পাঁচ বছর বাদে ১৯০১ সালে জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে গানটি গেয়েছিলেন দক্ষিণাচরণ সেন। ১৯০৫ সালে কংগ্রেসের বারাণসী অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’ গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের ভাগ্নি সরলা দেবী চৌধুরাণী। ১৯৫০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জনগণমন’ ভারতের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা লাভ করে। ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা দেওয়া হয় ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে।

    স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই বীজ মন্ত্র যে বাড়িতে বসে লিখেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরবর্তীতে ‘বন্দে মাতরম ভবন’ নামেই তার নামকরণ করা হয়। এই ভবনের পরিদর্শক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঐতিহ্যর এই বাড়িতে কার না পায়ের ধুলো পড়েছে? হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রামগতি ন্যায়রত্ন, কবি অক্ষয়চন্দ্র সরকার, কবি দীননাথ ভড়দের মতো মানুষরা আসতেন এখানে। সাহিত্য সম্রাটের সঙ্গে ছিল তাঁদের নিত্য আড্ডা।”

    এই ঐতিহাসিক বাড়ির ক্ষতি মেনে নিতে পারছেন না আশেপাশের মানুষজন। সপ্তর্ষিবাবু বলেন, দেবকে উদ্ধার হওয়া বিপুল বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে পুলিশ অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। তাতেই এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হল এই ঐতিহ্যশালী ভবনকেও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More