শিলিগুড়ির হোটেলে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা, ভিনরাজ্য থেকে এসে থাকা যাবে টাকা দিয়ে

ঝাঁ চকচকে হোটেলগুলিতে দু’‌বেলা মিলবে প্রোটিন যুক্ত খাবার। টানা ১৪ দিন ওই হোটেলের ঘরে বন্দি হয়ে থাকতে হবে। হোটেলের কোনও কর্মী বা ম্যানেজারের সংস্পর্শে আসা যাবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: বাইরে থেকে এলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলির অবস্থা নিয়ে নানা অভিযোগ সর্বত্র। এবার সামর্থ্য যাঁদের আছে, তাঁদের জন্য পেইড কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি হল উত্তরবঙ্গে। ট্রেন বা প্লেন থেকে নেমে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের পর কেউ যদি মনে করেন সরকারি কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থায় না থেকে কিছু টাকা খরচ করে একটু আরামে থাকবেন, তাহলে সোজা তিনি চলে আসতে পারেন এই পেইড কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে।

    দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিলিগুড়ির ১১ টি হোটেলকে বেছে নেওয়া হয়েছে ‌পেইড কোয়ারেন্টাইন সেন্টার’‌ হিসেবে। ঝাঁ চকচকে হোটেলগুলিতে দু’‌বেলা মিলবে প্রোটিন যুক্ত খাবার। টানা ১৪ দিন ওই হোটেলের ঘরে বন্দি হয়ে থাকতে হবে। হোটেলের কোনও কর্মী বা ম্যানেজারের সংস্পর্শে আসা যাবে না।

    শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, ‘‘‌আমরা প্রশাসনের পাশে আছি, যাতে আগামীদিনে এই ভাইরাস অন্য কোথাও না ছড়ায়। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য হোটেল কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা এই হোটেলে থাকবেন তাঁদেরকেও স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া নিয়মগুলো মানতে হবে। হোটেলের ঘরে থাকতে ভাল লাগছে না বলে একটু বাইরে বেরিয়ে আসি এরকমটা করা যাবে না। এক দিন অন্তর অন্তর ঘরগুলি স্যানিটাইজ করা হবে। সরকারি নিয়ম মেনে প্রোটোকল অনুযায়ী প্রোটিনযুক্ত খাবারও পাবেন বোর্ডাররা। আর্থিক মন্দার জন্য ঘরের ভাড়াও অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’‌

    জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর শিলিগুড়ির ১১ টি হোটেলে ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে এই পরিষেবা। বাইরের রাজ্য থেকে ফিরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য কেউ চাইলেই এই হোটেলগুলিতে ঘরভাড়া নিতে থাকতে পারবেন। ৪০ শতাংশ ভাড়া কমানোর কথা বলা হয়েছে হোটেলগুলিকে। প্রশাসনের তরফে হোটেল মালিকদের বলা হয়েছে হোটেল কর্মীদের যাবতীয় সুরক্ষা মেনে কাজ করতে হবে। কোয়ারেন্টিনে আসা প্রত্যেকের ব্যাগ স্যানিটাইজ করতে হবে। হোটেল কর্মীদের সরকারের তরফে পিপিই কিট দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।

    সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী শিলিগুড়ির ডলি ইন, হোটেল হেরিটেজ, দ্য কাঞ্চনজঙ্ঘা লজ, হোটেল সেন্ট্রাল পার্ক, হোটেল স্বস্তিক, হোটেল স্বস্তিক রেসিডেন্সি, হোটেল হলিডন, হোটেল মাউন্টেনভিউ, হোটেল সচিত্র, ম্যারিয়ট এবং আর্য হোটেলে এই পেইড কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

    লকডাউনের জন্য গোটা উত্তরবঙ্গজুড়ে সমস্ত হোটেল গত দু–আড়াই মাস ধরে খালি পড়ে রয়েছে। ভরা পর্যটন মরসুমে চূড়ান্ত ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে হোটেল ব্যবসায়ীরা। উজ্জ্বলবাবু বলেন, ‘‘‌লকডাউন চলাকালীন প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ কোটি টাকা করে ক্ষতি হয়েছে। এই ধাক্কা সামলাতে হোটেল ব্যবসায়ীদের দু’বছর লাগবেই। তবুও ২০২০ সালে আমাদের লক্ষ্য করোনাকে প্রতিরোধ করা, যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি। ব্যবসার কথা না হয় পরের বছর ভাবা যাবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More