নামেই একশো দিনের কাজ, রাস্তার পাশে ঘাস ছিঁড়েই পারিশ্রমিক মিলছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের

বিরোধীদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর আসছে এক একটি এলাকায় প্রায় শতাধিক কর্মী লাগিয়ে চলছে কেবলমাত্র রাস্তার ধারে ঘাস ছেঁড়ার কাজ। এক একজন শ্রমিক কেবলমাত্র হাতের নাগালের মধ্যেই সামান্য কিছু ঘাস ছিঁড়েই তাঁর কাজ শেষ করছেন। এভাবে সরকারী অর্থের অপচয় হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কোভিড পরিস্থিতিতে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে একাধিক পদক্ষেপ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।  যাঁরা কাজ করতে ইচ্ছুক তাঁদের প্রত্যেককে বিশেষত যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ করতে চাইবেন তাঁদের দ্রুত জবকার্ড দেবার নির্দেশও দিয়েছেন। লকডাউন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা ফেরাতে ১০০ দিনের প্রকল্পকেই হাতিয়ার করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরেই গোটা রাজ্য জুড়ে জোরকদমে শুরু হয়েছে  ১০০ দিনের কাজ । কিন্তু এবার সেই ১০০ দিনের কাজ নিয়েই উঠতে শুরু করে দিল নানান প্রশ্ন। জায়গায় জায়গায় ১০০ দিনের প্রকল্পে কেবলমাত্র ঘাস ছিঁড়েই মিলছে মজুরি। এমনটাই অভিযোগ বিরোধীদের।

পূর্ব বর্ধমান জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি গৌরব সমাদ্দার বলেন, ‘‘১০০ দিনের প্রকল্পে মানুষকে কাজ দেওয়া হচ্ছে এটা অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ। কিন্তু কী কাজ করা হচ্ছে এবং কী কাজের বিনিময়ে জবকার্ডধারীদের অর্থ প্রদান করা হচ্ছে সেটাও লক্ষ্য রাখা উচিত ছিল সরকারের।’’ তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর আসছে এক একটি এলাকায় প্রায় শতাধিক কর্মী লাগিয়ে চলছে কেবলমাত্র রাস্তার ধারে ঘাস ছেঁড়ার কাজ। এক একজন শ্রমিক কেবলমাত্র হাতের নাগালের মধ্যেই সামান্য কিছু ঘাস ছিঁড়েই তাঁর কাজ শেষ করছেন। এভাবে সরকারী অর্থের অপচয় হচ্ছে।

তিনি জানিয়েছেন, চলতি সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে এই ১০০ দিনের কাজ পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ দীর্ঘ লকডাউনের জেরে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শুরু হয়েছে। অনেকেই কাজ হারিয়ে বাড়িতে বসে রয়েছেন। এই অবস্থায় তাঁদের কাছে ১০০ দিনের কাজ নিয়মিত পাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কেবলমাত্র ঘাস ছেঁড়ার কাজ করা হলে – তা সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

শুধু কংগ্রেসই নয়, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে এভাবে সরকারী অর্থের অপচয় নিয়ে সরব হচ্ছে বিজেপিও। বিজেপির বর্ধমান জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী বলেন, ‘‘যাঁরা ঘাস ছিঁড়ছেন এটা তাঁদের দোষ বা অন্যায় নয়। যাঁরা তাঁদের দিয়ে এই কাজটা করাচ্ছেন এটা তাঁদের অন্যায়। সঠিক পরিকল্পনা না থাকার জন্যই এই ধরণের হাস্যকর ঘটনা ঘটছে। এই প্রকল্পে সম্পদ সৃষ্টিই প্রশাসনের লক্ষ্য হওয়া উচিত। ঘাস ছেঁড়া নয়।’’ তিনি জানিয়েছেন, এব্যাপারে তাঁরা জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাবেন।

এদিকে, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে সম্প্রতি সরকারিভাবে বেশ কিছু নতুন গাইড লাইন প্রকাশিত হয়েছে। কী কী কাজ করা যাবে, কী কী কাজ করা যাবে না তাও সুষ্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই গাইড লাইন অনুযায়ী কোথাও কোথাও ক্যানেল, নালা সংস্কার জাতীয় কাজ, বৃক্ষরোপন প্রভৃতি কাজ করাও হচ্ছে। কিন্তু জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকেই অভিযোগ আসতে শুরু করেছে রাস্তার পাশে ঘাস ছিঁড়তে ব্যবহার করা হচ্ছে ১০০ দিনের প্রকল্পকে।

পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও ১০০ দিনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু ঘাস ছেঁড়া হচ্ছে – এরকম কোনও অভিযোগ তাঁরা এখনও পাননি। এরকম অভিযোগ এলে অবশ্যই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহেই আমি এবং জেলাশাসক বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে ১০০ দিনের কাজ খতিয়ে দেখছি। কিন্তু এই ধরণের কোনও বিষয় আমাদের চোখে পড়েনি।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More