পরিষেবা নেই, ‘কাটমানি’র রমরমা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এককাট্টা পুরুলিয়ার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড

সব অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীর, তবে দল বলল অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: এই সেদিনও নাকি তিনি ছিলেন একটি মদের দোকানের সামান্য কর্মচারি। সামান্য রোজগারে কোনও মতে ঘুরতো সংসারের চাকা। কিন্তু স্ত্রী কাউন্সিলর হতেই হাতে চলে এল আলাদীনের প্রদীপ। এখন তাঁদের ঝাঁ চকচকে বাড়ি। বাড়ির নীচে হরেক কিসিমের নামী দামী গাড়ি। নিন্দুকেরা বলেন, শহর লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় স্বনামে ও বেনামে থাকা সম্পত্তিও নজরে পড়ার মতো।

    জেলায় জেলায় সভা করে দলের নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বারবার দলের কর্মীদের সহজ, সাধারণ জীবনযাপনের পরামর্শ দিচ্ছেন, সৎ থাকতে বলছেন, তার কিছুই কি তবে কানে যাচ্ছে না তাঁদের? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে পুরুলিয়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগ, আবাস যোজনায় বাড়ি করতে গেলেই যে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামীকে দিতে হচ্ছে দফায় দফায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে। যারা দিচ্ছেন, বাড়ি হচ্ছে তাঁদের। যাঁরা দিচ্ছেন না, অর্ধেক ইট গাঁথা হয়েই থমকে যাচ্ছে কাজ।

    পুরুলিয়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রোকেয়া খাতুন। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত পুরভোটে তাঁকে জিতিয়ে আনার অনেকখানি কৃতিত্বই নাকি তাঁর স্বামী আসলাম শেখ ওরফে রাজেশের। এলাকার মানুষের অভিযোগ, ভোটে জিতে কাউন্সিলর হতেই এররকম বেপাত্তা রোকেয়া। কাজকর্ম সবই তাঁর বকলমে চালান রাজেশ। আর তার ফলও দেখতে পাচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

    ওয়ার্ডের সর্বত্র কাঁচা ড্রেন দূষণ ছড়াচ্ছে। ভাঙা রাস্তায় প্রাণ হাতে করে যাতায়াত সাধারণ মানুষের। পানীয় জল নিয়ে আসতে হয় অনেক দূর থেকে। বাসিন্দাদের কথায়, “এই ওয়ার্ড ঘুরে দেখলেই কেমন উন্নয়ন হয়েছে, তা নজরে আসবে। রাস্তা নেই, জল নেই, অথচ একটা লোকও ওদের কাটমানি না দিয়ে বাংলা আবাস যোজনায় ঘর পাচ্ছেন না।”

    পুরুলিয়ার কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “এটাই ওঁদের কালচার। যে উন্নয়নের কথা বলে ভোটে জিতলেন সেই উন্নয়নের টিকিটুকু দেখা গেল না এলাকায়। যেখানে সেখান শুধু ময়লা ও আবর্জনার স্তূপ। নর্দমার জল উঠে আসছে রাস্তায়। স্ত্রীর কাউন্সিলর পদ খাটিয়ে সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন স্বামী। এতদিন ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা নিত তৃণমূল, এখন রেহাই দিচ্ছেন না সাধারণ মানুষকেও।”

    বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙ্গা বলেন, “১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি আবাস যোজনায় একটা ঘরও হয়নি ওদের কাটমানি না দিয়ে। কাউন্সিলর হয়ে হাতে জাদুর ছড়ি পেয়ে গেছেন ওরা। ওয়ার্ডের মানুষ ভুগছেন, আর সম্পত্তির পাহাড় তৈরি করছেন ওই দম্পতি।”

    এই সমস্ত অভিযোগ যাঁদের বিরুদ্ধে সেই তৃণমূল কাউন্সিলর রোকেয়া খাতুন অবশ্য এ ব্যাপারে কোনও কথা বলতে চাননি। আর তাঁর স্বামী আসলাম শেখের বক্তব্য, “বিরোধীরা আমাকে বদনাম করতে এসব কথা বলছেন। একজন মানুষও বলতে পারবেন না আমি তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছি।”

    পুরুলিয়ায় তৃণমূলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রোকেয়া ও রাজেশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তাঁর কানে এসেছে। তিনি বলেন, “তবে সমস্যা হচ্ছে কেউ কোথাও কোনও লিখিত অভিযোগ করেননি। তাও আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তদন্তে যদি দোষ প্রমাণিত হয় তবে তাঁকে যেন আর টিকিট না দেওয়া হয় তার সুপারিশ করব। জেলা সভাপতিকেও আপনারা বিষয়টি জানান। ব্যবস্থা তো তিনি নেবেন।”

    সব মিলিয়ে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ পুরভোটের মুখে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে যে অস্বস্তিতে ফেলেছে তা বলাই যায়।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More