দিনহাটার নির্যাতিতা স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মারধরের মামলা দায়ের করলেন অভিযুক্তের স্ত্রী

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার স্ত্রীর অভিযোগ, ওই স্কুল শিক্ষিকা ও তাঁর স্বামী সোমবার তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মারধর করেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: অভিযোগ দায়েরের পর কেটে গেছে চারদিন। দিনহাটায় স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণের মামলায় এখনও অধরা মূল অভিযুক্ত কোচবিহারের জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নুর আলম হোসেন। উল্টে নির্যাতিতা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে গত ৫ তারিখ থানায় মারধরের অভিযোগ দায়ের করেছেন নুর আলম হোসেনের স্ত্রী শামিমা সামি। এই ঘটনার তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি  হয়েছে গোটা জেলা জুড়ে । পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন ।

    নুর আলম হোসেনের স্ত্রীর অভিযোগ, ওই স্কুল শিক্ষিকা ও তাঁর স্বামী সোমবার তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মারধর করেছে। শাসক দলের ডাকাবুকো নেতাকে বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হল, আর বাইরের কেউ তা জানতে পারল না, বিষয়টি হাস্যকর ঠেকছে দিনহাটার মানুষের একাংশের কাছে।

    ইতিমধ্যেই আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন নির্যাতিতা স্কুল শিক্ষিকা। এরপরেও দিনহাটার পুলিশ চুপ। জেলার পুলিশ সুপারকে এই বিষয়ে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলেও এড়িয়ে গেছেন তিনি। শাসক দলের এই নেতাকে বাঁচাতে পুলিশের ভূমিকা তৃণমূলের অন্দরেও প্রশ্ন তুলেছে। নেতাদের অনেকেই বলছেন, এসব কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে দল সম্পর্কে ভুল বার্তা যাচ্ছে ।

    এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির জেলা সভানেত্রী মালতি রাভা বলেন, ‘‘তৃণমূলের জমানায় পুলিশ নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ায় না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা। আর তাঁর পুলিশ নির্যাতিতার পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টে ধর্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। এটা লজ্জার।’’ তবে তৃণমূলের জেলার কার্যকরী সভাপতি পার্থপ্রতীম রায়ের বক্তব্য, ‘‘পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবেই তদন্ত করছে। তদন্তে তেমন কিছু পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দলও যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেবে।’’

    দিনহাটার নির্যাতিতা শিক্ষিকা বলেন,‘‘অভিযোগ দায়ের করার পরেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাই ওই তৃণমূল নেতার শাস্তির দাবিতে দিনহাটা থানায় ধর্না দিতে যাচ্ছিলাম। তখনই জানতে পারি, ধর্না দিতে থানায় গেলেই আমাকে গ্রেফতার করা হবে। কারণ অভিযুক্তের স্ত্রী আমার বিরুদ্ধে একটা মামলা করেছেন দিনহাটা থানায়।’’

    বিষয়টি নিয়ে দিনহাটার এসডিপিও মানবেন্দ্র দাসকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে। যা বলার তা আদালতে বলব।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More