নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ফের উত্তাল চুঁচুড়া পুরসভা, রাজ্য তালিকা বাতিলের পরেও কীভাবে নিয়োগ, তা নিয়ে প্রশ্ন

অস্বচ্ছতার অভিযোগ পেয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া আগেই বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। অভিযোগ, তারপরেও কাজে যোগ দিয়েছেন চাকরী প্রার্থীরা। আর তারপরেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরসভা গেটে বিক্ষোভ শুরু করে অস্থায়ী কর্মীরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ফের উত্তাল হয়ে উঠল চুঁচুড়া। চুঁচুড়া পুরসভা ঘেরাও করে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন অস্থায়ী কর্মীরা। এরফলে বন্ধ হয়ে গেল পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় সাফাইয়ের কাজ। দাবি মানা না হলে পুর এলাকায় জল বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন এই অস্থায়ী পুরকর্মীরা। তাই রীতিমতো চিন্তায় পড়ে গেছেন বাসিন্দারা।

    অস্বচ্ছতার অভিযোগ পেয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া আগেই বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। অভিযোগ, তারপরেও কাজে যোগ দিয়েছেন চাকরী প্রার্থীরা। আর তারপরেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরসভা গেটে বিক্ষোভ শুরু করে অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের দাবি, রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই তালিকাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশও দিয়েছেন। তার পরেও কীভাবে নতুন প্রার্থীরা কাজ করছে। অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে পুর কর্তৃপক্ষের দিকে।

    অভিযোগ উঠেছে যে নিয়োগ তালিকা বাতিল হয়েছে সেই তালিকায় নাম থাকা চার প্রার্থীকে পুরসভার কমিউনিটি হলে বিনা খরচে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই চারজনের বাড়ি মুর্শিদাবাদ, নদিয়া সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলায়। তাঁদের মধ্যে তিনজন মজদুর এবং একজন পিয়নের পদে কাজে যোগ দিয়েছেন। অভিযোগ, গত তিন মাস এই চারজনকে পুরসভায় কাজ করতে দেখেননি অস্থায়ী কর্মচারীরা। নিয়ম মেনে চাকরি পাওয়ার কথা বললেও প্রার্থীদের কথায় উঠে এসেছে একাধিক অসঙ্গতি।

    নতুন চাকরি পাওয়া কৃষ্ণচন্দ্র মণ্ডল জানান, তিনি ২৩ মার্চ চাকরিতে যোগদান করেছেন। কাজে যোগদানের পর তিনি নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন। বিক্ষোভরত পুরকর্মীদের বক্তব্য, এটা কীভাবে সম্ভব। প্রথমত ওই দিন থেকেই লকডাউন শুরু হয়েছিল। অফিস কাছারি সবকিছুই বন্ধ ছিল। ওই দিন তিনি মুর্শিদাবাদের রানিনগর থেকে চুঁচুড়ায় এলেনই বা কীভাবে?  আবার নিয়োগপত্র ছাড়া তিনি কাজেই বা যোগ দিলেন কী ভাবে?

    নদিয়া জেলার পুরুলিয়া গ্রামের প্রাক্তন সেনাকর্মী সুনীল সর্দারের কথাতেও অসঙ্গতি দেখছেন বিক্ষোভরত কর্মীরা। তিনি বলেছেন, ২৩ মার্চ ডাক যোগে নিয়োগ পত্র পেয়েছেন। আর সেই দিনই এসে মজদুর পদে কাজে যোগ দিয়েছেন। লকডাউন চলাকালীন তিনিও চিঠি পেয়েছেন কাজেও যোগ দিয়েছেন, এমনটা মানতে নারাজ বিক্ষোভকারীরা। নদিয়ার মুরুদিয়া এলাকার রাজীব রায় জানিয়েছেন, ২৩ মার্চ কাজে যোগ দিয়ে তিনি টানা তিন মাস ধরে ডিউটি করছেন। লকডাউন চলছিল তাই পুরসভার কমিউনিটি হলে থাকছেন। তবে ওই চারজনের কেউই নিয়োগ পত্র দেখাতে পারেননি। নব নিযুক্ত প্রার্থীদের বলা নানান অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তায় পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

    অস্থায়ী মজদুর রাধেশ্যাম শঙ্খবনিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজন পোষণের অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন, ‘‘প্রার্থীদের কথায় একাধিক অসঙ্গতি পরিষ্কার। লকডাউনের সময় পুরসভা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, ভেতরে কেউ ছিল না। রাজ্যের তরফে প্যানেল বাতিল ঘোষণার পর সম্প্রতি নতুন প্রার্থীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে পরে। এই নিয়োগ নিয়ে প্রথমেই আপত্তি জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। তার পর নিয়োগ বাতিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তার পরেও প্রার্থীরা চাকরিতে যোগদান করছেন কীভাবে।’’

    তবে বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, ‘‘যা হয়েছে সরকারি ভাবেই হয়েছে। অস্থায়ী কর্মীরা কেন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তা জানা নেই। এতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হবে। বিক্ষোভকারীরা জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের সঙ্গে বসে সমঝোতা করে নিক।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More