বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেন ঢুকল বাঁকুড়ায়, ঘরে ফিরলেন আটকে পড়া ১২০০ জন

মঙ্গলবার সকালে  বেঙ্গালুরু থেকে আসা শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ঢুকল বাঁকুড়ায়। বাড়ি ফিরলেন জেলার বিভিন্ন জেলার পরিযায়ী শ্রমিক সহ ভিন রাজ্যে চিকিৎসার জন্য গিয়ে আটকে পড়া মোট ১২০০ জন।

২৫

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া: অবশেষে অপেক্ষার অবসান। দীর্ঘ দেড় মাস পর রাজ্যের মাটিতে পা রাখলেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকালে  বেঙ্গালুরু থেকে আসা শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ঢুকল বাঁকুড়ায়। এই ট্রেনে বাড়ি ফিরলেন জেলার বিভিন্ন জেলার পরিযায়ী শ্রমিক সহ ভিন রাজ্যে চিকিৎসার জন্য গিয়ে আটকে পড়া মোট ১২০০ জন। বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, কলকাতা, নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দারা রয়েছেন এই দলে।

চিকিৎসা করাতে বেঙ্গালুরু গিয়ে আটকে পড়া পূর্ব মেদিনীপুরের বাবলু গুছাইত, বীরভূমের বোলপুরের পারমিতা চ্যাটার্জিরা বলেন, কী যে সমস্যায় ছিলাম বলে বোঝাতে পারব না। চিকিৎসার খরচ সামলে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া ও খাওয়ার খরচ জোগাতে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছিলাম।’’ নদিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক নারায়ণ মণ্ডল বলেন, ‘‘একদিকে কাজ নেই, তাই রোজগারও ছিল না। খুব সমস্যায় ছিলাম। ট্রেনের টিকিট কাটার মতো টাকাও ছিল না। তাই বাড়ি ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। ফিরতে পেরে কী যে ভাল লাগছে!’’

এদিন সকালে বাঁকুড়ায় ট্রেন ঢোকার আগে থেকেই স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। ছিলেন নির্বাচিত পদাধিকারিকরা। জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু বলেন, ‘‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেষ্টায় এত লোক আজ ঘরে ফিরতে পারলেন। ট্রেন থেকে নামার পর প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তবেই ঘরে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে।’’  বেঙ্গালুরু থেকে ওই বিশেষ ট্রেনে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিক ও অন্যদের জন্য স্টেশন চত্বরেই থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা্ করা হয়। বাঁকুড়া স্টেশন চত্বরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর এখান থেকে বিশেষ বাসে করে প্রত্যেককে নিজের নিজের জেলায় ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এ দিন বাঁকুড়া জেলায় প্রায় ১৫ জন বাসিন্দা ফিরে আসেন। তাঁদের আপাতত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিনরাজ্যে আটকে থাকা বাংলার মানুষদের ফেরানো নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর হয়েছে গত কয়েকদিনে। লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী, বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ একযোগে অভিযোগ করেন, রাজ্যের মানুষকে ফেরাতে কোনও গা করছে না নবান্ন। অধীরবাবু বলেন, তিনি রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন বাংলার নোডাল অফিসার কোনও রেসপন্সই করছেন না।

এরমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে তিনি লেখেন, রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে উদ্যোগ নিক। নইলে তাঁদের প্রতি চূড়ান্ত অবিচার করা হবে। কাকতালীয় ভাবে তারপরই নবান্ন থেকে আটটি ট্রেনের অনুমোদন চাওয়া হয় রেল ভবনের কাছে। তবে সেসব মিটিয়ে ট্রেন ঢুকতে শুরু করেছে রাজ্যে। ঘরে ফিরছেন বাইরের রাজ্যে অবরুদ্ধ থাকা মানুষজন।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More