দিলীপ-মুকুল ভারসাম্য, নবাগতদের উৎসাহ, রাজ্য বিজেপির কোর কমিটিতে ভোটের দামামা

দলের একাংশ নেতার মতে, এই কমিটি গড়তে দিলীপ ঘোষ-সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা খুবই কম ছিল। বাংলা থেকে সুপারিশ গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু যা করার তা দিল্লিই করেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোটের আগে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য অনেক আগেই বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন অমিত শাহ, জগৎপ্রকাশ নাড্ডারা। সোমবার রাজ্য বিজেপি যে কোর কমিটি ঘোষণা করেছে তাতে সেই ভারসাম্যটাই স্পষ্ট। যত গুরুত্ব পেয়েছেন দিলীপের ঘনিষ্ঠ পুরনোরা, ততই স্বীকৃতি পেয়েছেন মুকুল রায়ের বৃত্তে থাকা বিজেপিতে নবীন নেতারা।

    করোনাভাইরাস আর লকডাউনের কারণে রাজ্যে পুরভোট এখন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঘটনা হল, পুরভোট নিয়ে বিজেপির মাথাব্যাথা বিশেষ ছিলও না। কারণ, দিলীপ রায়-মুকুল রায়রা ঘরে বাইরে বলছিলেন, পুরভোটে ফের গায়ের জোর দেখাবে তৃণমূল। পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভোট করাবে। আসল লড়াই হবে একুশে। সেই বৃহত্তর লড়াইয়ের কথা ভেবেই নয়া কমিটির গঠন হল। এই কমিটি নিয়ে একুশের ভোটে যাবে বিজেপি। সে দিক থেকে রাজ্য সংগঠনে দলের পোড় খাওয়া মুকুল রায়ের প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ।

    আরও পড়ুন

    রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি, লকেটের জায়গায় অগ্নিমিত্রা, বড় দায়িত্বে সৌমিত্র খাঁ

    লোকসভা ভোটের আগে তাঁর হাত ধরেই তৃণমূলে এসেছিলেন সেই সময়কার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, মালদহের হবিবপুরের সিপিএম বিধায়ক খগেন মুর্মু এবং বাগদার কংগ্রেস বিধায়ক দুলাল বর। বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র ও রাজারহাটের বিধায়ক সব্যসাচী দত্তর বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সূত্রও মুকুলবাবু। নতুন কমিটিতে এঁরা সবাই গুরুত্ব পেয়েছেন। বিশেষ করে দলের যুব সংগঠনের সভাপতি হিসাবে সাংসদ সৌমিত্র খাঁর গুরুত্ব এখন অনেকটাই।

    বস্তুত অন্য দল থেকে বিজেপি-তে আসা নেতাদের অনেক দিন ধরেই হতাশা ছিল যে পুরনো নেতারা তাঁদের জায়গা দিচ্ছেন না। জেলার বিভিন্ন কমর্সূচিতেও সামিল করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা মনমরাই ছিলেন দুলাল বর। এমনকি এও রটেছিল, শাসক দল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এই অবস্থায় দুলাল বরকে তফসিলি মোর্চার নেতা করার মধ্যে দিল্লির বার্তা রয়েছে। একই ভাবে তফসিলি উপজাতি মোর্চার নেতা করা হয়েছে মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মুকে।

    তা ছাড়া নতুন কমিটিতে গুরুত্ব পেয়েছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহ ও অগ্নিমিত্রা পলের মতো নবাগতরাও।
    ইদানীংকালে রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সভাপতি পদটা যেন নতুনদের জন্যই রাখা হয়েছে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রায় পরে পরেই সেই দায়িত্ব পান অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এর পরে তিনি সাংসদ হয়ে গেলে সেই জায়গায় আসেন দলে প্রায় নতুন আরও এক অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। এবার লকেটের জায়গায় এলেন গত লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল। ২০১৯-এর নির্বাচনে শোনা গিয়েছিল প্রার্থী হবেন অগ্নিমিত্রা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে এবার বড় দায়িত্ব পেয়ে গেলেন।

    কোনও প্রতিদ্বন্দিতা ছাড়াই দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন জানুয়ারি মাসে। তার পরেই নতুন করে রাজ্য কমিটি গঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা খুব একটা সহজ ছিল না। দিলীপ ঘো‌ষ, মুকুল রায় তো আছেনই সেই সঙ্গে দলের সংগঠন সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা সকলেরই নানা দাবি দাওয়া ছিল। তাই ভারসাম্য রেখে কমিটি গড়তে অনেকটা সময় নেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাও। বিজেপি সূত্রে খবর, এখন যে কমিটি ঘোষণা হয়েছে তা নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হচ্ছিল না অনেক দিন ধরেই। সেই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষে বলা হয় পুরভোটের আগে আগে নতুন কমিটি গঠন না করাই ভাল। স্থগিত রাখা হয় প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ, লকডাউন, পুরভোট বাতিল ইত্যাদি একের পর এক বাধায় অনেকটা সময় পেয়ে যায় রাজ্য বিজেপি। তার পরেও যে কমিটি ঘোষণা হয়েছে তা নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

    বিজেপিতে সাধারণ সম্পাদক পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ঢুকলেন হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। ওই পদে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতর নাম থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দু’জনের ক্ষেত্রেই এটা বড় উত্থান। পুরনোদের মধ্যে রইলেন সায়ন্তন বসু, সঞ্জয় সিংহ এবং রথীন্দ্রনাথ বসু। গত কয়েক বছর ধরে মহিলা মোর্চার নেতৃত্ব দিতে গিয়ে লড়াকু মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন লকেট। এবার বড় দায়িত্ব। অনেকেই মনে করছেন লকেট সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় গুরুত্ব কমবে সায়ন্তন বসুর। আর তাতে কিছুটা হলেও চাপে থাকবে সুব্রত চট্টোপাধ্যায় গোষ্ঠী।

    নতুন কোর কমিটিতে সহ-সভাপতি পদেও রয়েছে দু’টি উল্লেখযোগ্য নতুন নাম। একজন প্রাক্তন পুলিশকর্তা ভারতী ঘোষ এবং অন্যজন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং। ভারতী অবশ্য আগেই সহ সভাপতি পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এবার নতুন কমিটিতেও রইলেন। কিছুদিন আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের গুরুত্ব এক লাফে অনেকটা বেড়েছে রাজ্য সংগঠনে। মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পুরস্কার হিসেবে রাজ্য সম্পাদক পদ পেলেন।

    রাজ্য বিজেপির সব শিবিরের মধ্যে ভারসাম্য রাখার যে চেষ্টা হয়েছে তা নিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “আমাদের কাছে কে কাজের লোক সেটা বড় কথা। কাছের লোক বলে রাজনীতিতে কিছু হয় না।” কিন্তু সত্যিই কি তাই? ইদানীং রাজ্য বিজেপিতে প্রায় ব্রাত্য হয়ে থাকা রীতেশ তিওয়ারি এসেছেন সহ সভাপতি পদে। অনেকেরই বক্তব্য, কোণঠাসা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহাকে খুশি করতেই অনুগামী রীতেশের এই উত্থান।

    তা ছাড়া দলের একাংশ নেতার মতে, এই কমিটি গড়তে দিলীপ ঘোষ-সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা খুবই কম ছিল। বাংলা থেকে সুপারিশ গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু যা করার তা দিল্লিই করেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More