বিকেল ডাক ফেরাতে উদ্যোগ বর্ধমানে, সঙ্গে সবুজায়নের বার্তা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরম পূজানীয়াসু… গুরুজনকে চিঠি লেখার সময় ণত্ব-ষত্ব জ্ঞান থাকা বেশ জরুরি ছিল নইলে শেষ বর্ণটা ‘স’ হবে নাকি ‘ষ’ – তা নিয়ে বড় বিড়ম্বনায় পড়তে হত। তারপরে আরেকটা সমস্যাও ছিল: হাতের লেখা। পোস্টকার্ডে চিঠি পাঠাতে হলে ওইটুকু জায়গার মধ্যে পুরোটা ধরাতে হবে। ছেলেবেলায় একটি পোস্টকার্ডে আবার দুই পিঠে অনেক সময় দু’জনকে চিঠি লিখতে হত।

    তখন মোবাইল ফোন দূরের কথা কোনও ফোনই ছিল না। শহুরে পাড়ায় বড়জোর একটি টেলিফোন তাও আবার সারাদিন ট্রাঙ্ক বুক করে বসে থাকা! তার আগে ভরসা ছিল টেলিগ্রাম। তাই সবচেয়ে সস্তায় মনের কথা বলতে গেলে পোস্টকার্ড ছাড়া গতি ছিল না।

    চিঠি লেখা একসময় শিল্পকর্মের নামান্তর হয়ে ওঠে, ইংরেজিতে একে বলে এপিস্টোলারি।

    টেলিকমিউনিকশনের উন্নতির সঙ্গে চিঠি লেখা ক্রমেই উঠে যেতে বসেছে। অফিস-কাছারি ছাড়া চিঠি লেখার চল আজকাল আর একেবারেই নেই। থাকলেও তা বেশ ব্যতিক্রমী। রবীন্দ্রনাথ টাকুর থেকে কার্লাইল… চিঠির স্বর্ণযুগ আবার ফিরবে এটা বেশ কষ্টকল্পনা।

    পুরনো অভ্যাস ফেরাতে এবার উদ্যোগী হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পাল্লারোড পল্লিমঙ্গল সমিতি। ইংরেজি নববর্ষে দোকান থেকে গ্রিটিংস কার্ড না কিনে দিয়ে চিঠি লিখে শুভেচ্ছা জানাতে উৎসাহ দিচ্ছে তারা। সংস্থার সব সদস্যই শুভানুধ্যায়ীদের হাতে লেখা চিঠি পাঠাচ্ছে। তারা বিশেষ পুরস্কারের আয়োজন করেছে সেরা চিঠি লিখিয়ের জন্য।

    পল্লিমঙ্গল সমিতির ৩৩০ জন সদস্য রয়েছেন। নতুন বছরে তাঁদের সকলকে পোস্ট কার্ড বা ইনল্যান্ড লেটার কার্ডে শুভেচ্ছা পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের কর্তা ও বিভিন্ন শুভানুধ্যায়ীকেও পাঠানো হচ্ছে হাতে লেখা চিঠি।

    বড়দিনের আগে থেকেই এই চিঠি লেখার শুরু হয়ে গিয়েছিল। ইতিমধ্যেই সমস্ত চিঠি পোস্ট করা হয়ে গেছে – সব মিলিয়ে অন্তত সাড়ে চারশো মতো চিঠি তো বটেই! শুধু চিঠি অবশ্য পাঠানো হচ্ছে না, চিঠির মধ্যে আটকানো থাকছে একটি গাছের বীজ। ওই বীজটি রোপন করার জন্য চিঠিতে অনুরোধও থাকছে, ওই বীজ রোপণ করুন। আর অনুরোধ করা হচ্ছে চিঠির উত্তর দেওয়ার জন্য। যে চিঠির বয়ান সব থেকে ভালো হবে, তাঁদের জন্য থাকছে বিশেষ পুরষ্কার। মানে পুরস্কার থাকছে শুধুমাত্র চিঠির উত্তরের উপরে।

    এই ভাবনা যাঁর সেই সন্দীপন সরকার বলেন, “এই ভাবনায় একই সঙ্গে কাজ করছে বেশ কয়েকটি দিক। প্রথম কথা চিঠি লেখার অভ্যাস ফেরানো, নতুন প্রজন্মের কাছে পোস্ট কার্ড, ইনল্যান্ড লেটার কার্ড তুলে ধরা আর তার সঙ্গে সবুজায়ন।” সন্দীপনের কথায়, মাত্র ৫০ পয়সার একটি পোস্ট কার্ডেই এতগুলি কাজ হচ্ছে। সেটা ফোন বা মেসেজে হয়ত সম্ভব হত না। সব না হোক, বেশ কয়েকটি চিঠির উত্তর আসবে বলে আশা করছেন সংস্থার উদ্যোক্তারা।

    এই উদ্যোগের ভূষয়ী প্রশংসা করেছেন ডাক বিভাগের বর্ধমান আরএমএস শাখার অফিসার ইনচার্জ শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে চিঠি লেখা অনেকটাই কমেছে। এই প্রয়াসে হয়তো অতীতের পত্রসাহিত্য আবার বেঁচে উঠবে। চিঠির সঙ্গে গাছের বীজ দেওয়ার প্রসঙ্গে ‘গাছ মাস্টার’ বলে পরিচিত অরূপ চৌধুরী বলেন, “সচেতনতা মানুষকে অনেকটা এগিয়ে দিতে পারে। সেই নিরিখে এটা একটা প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। আবার হয়তো শুনতে পাবো – “আজ বিকেলের ডাকে তোমার চিঠি পেলাম।”

    ব্যস্ততার যুগে এই উদ্যোগ নজর কাড়লেও তাতে পত্রসাহিত্যের কতটা উপকার হবে বলা মুশকিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More