বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

দিঘা হবে হিন্দু তীর্থ, পুরীর পর্যটক বাংলায় টানতে জগন্নাথ মন্দিরও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমুদ্রের পাশে পাথওয়ে নেই পুরীতে। নেই মেরিনা ব্রিচ। নেই ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার। সব হবে দিঘায়। হিন্দুতীর্থ দিঘায় আছে ঐতিহ্যমণ্ডিত জগন্নাথ মন্দির। সেই ফাঁকটুকুও আর রাখতে চায় না রাজ্য সরকার। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দিঘায় তৈরি হচ্ছে জগন্নাথ মন্দির। এক বছর আগেই সেই ঘোষণা করেছিলেন মমতা। এবার সেই কাজ দ্রুতু শুরু ও শেষ করার নির্দেশ দিয়ে দিলেন।

এদিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠক হয় দিঘায়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরীর মন্দিরের সমান উচ্চতার জগন্নাথ মন্দির বানানো হবে দিঘায়। পুরনো জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে দু’একর জমির উপরে তৈরি হবে মন্দির। সরকার ধর্মীয় মন্দির বানাতে পারে কিনা সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তার জন্য প্রশাসনিক ভাবে এই মন্দির প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে– জগন্নাথ সংস্কৃতি কেন্দ্র।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিঘায় এখন মানুষ শুধু বেড়াতে আসেন। এবার মন্দির তৈরি হলে বেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুজোও দেওয়া যাবে। মঙ্গলবারই প্রস্তাবিত মন্দির এলাকায় যান মমতা। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘পুরীর আদলে এখানে জগন্নাথ মন্দির হবে। পুরীর মন্দিরের সমানই উচ্চতা হবে। সমুদ্রের পাশে অনেকটা জায়গা আছ। সরকার এটা করবে। কারণ এটা পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত। এটা একটা ধর্মীয় তীর্থ এবং সংস্কৃতি কেন্দ্র।’’

কারা মন্দির তৈরি করবে তা নিয়েও এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রথমে মমতা জানান, বাইরের লোক না ডেকে কেএমডিএ বা পিডব্লুডির হাতেই থাক নির্মাণের দায়িত্ব। পরে অবশ্য তিনি বলেন, পুরীর মন্দিরের মতো ভাষ্কর্য যারা করতে পারবে তাদেরই দেওয়া হোক বরাত।

শুধু মন্দির নির্মাণ নয়, দিঘায় আধুনিক মানের পার্কিংয়ের জায়গা থেকে সমুদ্রের ধারে ৭ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ চালু করা-সহ একগুচ্ছ পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন মমতা। তিনি জানান, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে দিঘায় অত্যাধুনিক সুবিধাযুক্ত হোটেল গড়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রতিদিন কলকাতা থেকে দিঘা পর্যন্ত হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, দিঘার সমুদ্রে সি প্লেন নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মমতা।

Comments are closed.