রবিবার, নভেম্বর ১৭

নয়া বেতন নিয়ে কি কর্মচারীদের তরফে মামলা চাইছে সরকার? দানা বাঁধছে সন্দেহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো সোমবার ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই অসন্তোষের আন্দাজ পাওয়া গিয়েছে। কর্মচারী সংগঠনের অনেক নেতাই আদালতে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। কিন্তু কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে এখন এই সন্দেহও তৈরি হয়েছে , সরকারই চাইছে না তো যে কর্মীরা আদালতে চলে যান! কারণ, আদালতে গেলে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ণের বিষয়টি ফের ঝুলে যেতে পারে। তা আপাতত স্বস্তি দিতে পারে অমিত মিত্র তথা নবান্নকে।

বস্তুত নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা হলেও, স্যাটের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ নিয়ে কোনও ঘোষণা হয়নি। ২০১৬ সাল থেকে বেতন কমিশন লাগু হলেও বকেয়া বেতন মিলবে না বলেই জানা গিয়েছে। হাউজ রেন্ট অ্যালাওয়েন্স ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশ হয়েছে। মূলত এই তিন ইস্যুতেই বাড়ছে ক্ষোভ।

সোমবার রাজ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ হওয়ার পরে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছিলেন। একটি প্রেস নোটও প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে সরকারি কর্মীদের মূল বেতনে ব্যান্ড পে-গ্রেড পে ভাগাভাগি আর থাকছে না, অবিভক্ত মূল বেতন কাঠামো চালু হচ্ছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ মতো বর্তমান মূল বেতন ও মহার্ঘ্য ভাতার সমষ্টি-র উপর ১৪.২ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে। তার উপর ২০১৬ সাল থেকে তিন বছর ৩ শতাংশ হারে নোশানাল এফেক্ট দেওয়া হবে। আগে কারও একশ টাকা মূল বেতন হলে এখন পাবেন ২৮০.৯০ টাকা। তবে নয়া বেতন কর্মীরা হাতে পাবেন ২০২০-র ১ জানুয়ারি থেকে।

অর্থাৎ, ২০১৬-র ১ জানুয়ারি থেকে যদি একজন কর্মী এই নয়া হারে বেতন পান, তা হলে তাঁর বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি যতটা হত এবং তার জেরে তাঁর বেতন ২০২০ সালের ১ জানুয়ারিতে যা দাঁড়াত, সেই বেতনই কর্মীরা পাবেন। কিন্তু নতুন কাঠামো অনুযায়ী গত চার বছরে যে অতিরিক্ত টাকা কর্মীদের প্রাপ্য হয়, সেই বকেয়া টাকা আর দেওয়া হবে না।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে কর্মচারী মহলে। বিরোধী শিবিরে থাকা কর্মী সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই তোপ দাগতে শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য, বর্ধিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী যে টাকা কর্মীদের প্রাপ্য হয় গত চার বছরের বকেয়া হিসেবে, তার পুরোটাই গায়েব। সরকার একটা টাকাও দেবে না। স্যাটের রায়ে বলা হয়েছে, আগে বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে, তার পরে বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করতে হবে। কিন্তু স্যাটের রায়ও রাজ্য সরকার মানল না। আদালতের নির্দেশকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করছে সরকার। কর্মীদের এই দাবির পাশে রয়েছে তৃণমূলের সংগঠনও। তারা সরাসরি বিরোধিতায় না গেলেও দাবি গুলো অস্বীকার করতে পারছে না।

এই পরিস্থিতিতেই উঠছে প্রশ্ন, তবে কি ফের আদালতে গড়াতে পারে বেতন মামলা? ডিএ নিয়ে দীর্ঘ লড়াই চলেছে আদালতে। রাজ্য সরকারের যা ভাবনা তাতে এখনও সেই মামলার শেষ হয়নি। স্যাটের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে যে সরকার আদালতে যেতে চায় তা ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে। এই অবস্থায় কর্মীদের অনেকের সন্দেহ, রাজ্য চাইছে কর্মচারী সংগঠনগুলিই ফের আদালতে যাক। একবার আদালতে মামলা গেল ফের থমকে যেতে পারে বেতনবৃদ্ধির উদ্যোগ। তাতে আখেড়ে লাভ সরকারেরই।

কর্মী সংগঠনগুলির মধ্যেও মামলার ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু অনেকে এখনই সেই ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষে নন। তাঁদের মতে, আপাতত নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হোক। আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামো লাগু হোক। এর পরে আদালতে যাওয়া যেতে পারে সরকারের বিরুদ্ধে। সেক্ষেত্রে এরিয়ার, এইচআরএ কমে যাওয়া নিয়ে যেমন অভিযোগ জানানো যাবে তেমনই স্যাটের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টিও আদলতের সামনে তুলে ধরা যাবে। প্রকাশ্যে না হলেও ইতিমধ্যেই এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।

সব মিলিয়ে নতুন বেতন নিয়ে নতুন মামলার সম্ভাবনা নিয়েই আপাতত চালু হতে চলেছে নয়া বেতন কাঠামো।

Comments are closed.