Exclusive: বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে মামলা হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূলের মেয়র রথীন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে, রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    শোভন চক্রবর্তী

    কথায় বলে হাওড়া শহরে যদি একবার স্পাইডারম্যান বেড়াতে আসতেন, তাহলে আর কখনও ফিরতেন না। ছাদের গায়ে ছাদ লেগে যাওয়া হাওড়া শহরে দাপিয়ে বেড়াতেন মহানন্দে। আজকে নয়। গত প্রায় আড়াই দশক আগে থেকেই শহর হাওড়ার আকাশ ছোঁয়া শুরু। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু এ বার সেই অভিযোগ উঠল হাওড়া কর্পোরেশনের সদ্য প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। মামলা হলো কলকাতা হাইকোর্টে। মঙ্গলবার আদালত নির্দেশ দিল, কী হয়েছে তা খতিয়ে দেখে কর্পোরেশনকে রিপোর্ট দিতে হবে।

    রথীনবাবুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিজেপি নেতা অম্বুজ শর্মা। অভিযোগ এই, কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৬২/১ নেতাজি সুভাষ রোডে একটি বেআইনি কনস্ট্রাকশন করেছেন চিকিৎসক রথীন চক্রবর্তী। জানা গিয়েছে, ওই বাড়িটি তৈরি হয়েছে রথীনবাবু মেয়র থাকার সময়ই।

    কালীবাবুর বাজার, চৌধুরী বাগানে ওই বাড়িতে একটি ইনভেস্টিগেশন সেন্টার চালান রথীনবাবু। সেটা আবার তাঁর বাবা প্রয়াত প্রখ্যাত চিকিৎসক ভোলানাথ চক্রবর্তীর নামে। যিনি শহরের প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন তাঁর বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগে মামলা হওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে শাসক দলের অন্দরে।

    এ দিন মামলা উঠেছিল হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে। বিচারক বলেন এই মামলার পরের শুনানি হবে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি। তার মধ্যে কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে।

    প্রসঙ্গত, ভোট হয়নি হাওড়া কর্পোরেশনে। আপাতত কর্পোরেশনের কাজ পরিচালনার জন্য বসানো হয়েছে প্রশাসক। আইএএস বিজিন কৃষ্ণা পৌর প্রশাসনের দায়িত্বে। ফলে তাঁকেই ১৯ তারিখের মধ্যে মাপামাপি করিয়ে জমা দিতে হবে রিপোর্ট।

    কিন্তু কী বলছেন রথীনবাবু?

    হাওড়ার সদ্য প্রাক্তন মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল দ্য ওয়াল-এর তরফে। তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশকে স্বাগত। আপাতত কর্পোরেশন প্রশাসকের দায়িত্বে। তিনি যা করার করুন। তদন্ত করে দেখুন। আমার কোথাও গিয়ে দাঁড়াতে আপত্তি নেই।” যেহেতু মামলাকারী দীর্ঘদিনের বিজেপি নেতা, তাই রথীনবাবুকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এর মধ্যে কি কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন? জবাবে তিনি বলেন, “থাকলে থাকতেই পারে। কে কোথায় কী করছে আমার পক্ষে তো বলা সম্ভব নয়। তবে আমি চাই সত্যিটা সবাই জানুক।”

    প্রশাসক বসার পর হাওড়া কর্পোরেশন এলাকায় নাগরিক পরিষেবার কাজ ঠিক মতো হচ্ছে না বলে বীরভূমের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরের দিনই সেখানে বৈঠক করতে ছুটেছিলেন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সূত্রের খবর সেখানে ফিরহাদও আগের বোর্ডের কাজ নিয়ে অসন্তোষ করেন ওই বৈঠকে। তৃণমূলের অনেকেই মনে করেন, রথীনবাবু মেয়র থাকার সময় কোনও নিয়ন্ত্রণই ছিল না তাঁর। মেয়রপারিষদ সদস্য থেকে কাউন্সিলর, সবাই চলেছেন নিজের মতো। ইতিমধ্যেই হাওড়ার শাসক দলের ভিতর গুঞ্জন, পরের ভোটে আর টিকিট পাবেন না রথীনবাবু। হাওড়ায় দলের অনেক তাবড় নেতার সঙ্গেই তাঁর সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়। তাই এমন অভিযোগ ওঠার পর সেই গুঞ্জন আরও অক্সিজেন পেল বলেই মনে করছেন প্রর্যবেক্ষকদের অনেকে। কর্পোরেশনের প্রশাসক আদালতে কী রিপোর্ট জমা দেন এখন সেটাই দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More