তিস্তার চরের মাঝে আফ্রিকান সাধু, উপচে পড়ছে ভিড়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফ্রিকার সাধু! সে দেশের কথা শুনলে প্রথমেই মনে পড়ে যায় গ্রানাইটের মতো কালো পাথরকোঁদা শরীরে লাল-হলুদ-সাদা দিয়ে আঁকা নকশা, মুখেও আলপনার মতো রংবেরঙের নকশা। তাঁর ঝুলি থেকে বেরতে পারে ছোট্ট বাঁদরের শুকনো পা, যে পা মেটাতে পারে তিন-তিনটি ইচ্ছা। কিন্তু প্রতিটির জন্যই মূল্য চোকাতে হবে। আফ্রিকার লোককথা তাই বলে।

    ইচ্ছাপূরণ না হোক, অন্তত চাক্ষুস দেখা তো যাবে সেই সাধুকে, দেখা যাবে তাঁর ঝুলিতে থাকা বাঁদরের থাবা! সাধু আসার খবর পেয়ে সময় নষ্ট না করে আমরা হাজির হয়েছিলাম তিস্তাপারের সারদাপল্লিতে।

    সেখানে গিয়ে আফ্রিকার সাধুর দেখাও পেলাম কিন্তু চেহারাটা বাঙালির মতো, নাম রাজ ঘোষ! ব্যাপার হল, শুটিং করছেন শিশু চলচ্চিত্র পরিচালক অভিরূপ গঙ্গোপাধ্যায়, ওরফে জিকো। আফ্রিকার সাধুর চরিত্রে অভিনয় করছেন পলিটেকনিক-ছাত্র রাজ। বড়দিন আর ইংরেজি নতুন বছরের মধ্যে যখন স্কুল-কলেজ ছুটি থাকে তখন তিনি পড়ুয়াদের নিয়ে সেরে নিয়েছেন শুটিং। এবারের ছবিটি আধাভৌতিক এক গল্প অবলম্বনে।

    গতবার গরমের ছুটি কাজে লাগিয়ে কচিকাঁচাদের নিয়ে তিনি বানিয়েছিলেন সুকুমার রায়ের ‘পাগলা দাশু’ গল্প অবলম্বনে ছবি। সেটি জলপাইগুড়ির বিভিন্ন স্কুল ও হোমে দেখানো হয়েছিল, দর্শকদের দারুণ লেগেছিল। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সেই ছবির খবর প্রচারিত হওয়ায় বেশ নামডাক হয়ে যায় অভিরূপের। প্রশংসিত হয় পুরো ইউনিটই। এবারেও ওই পুরোনো দল নিয়েই তিনি ছবি বানাচ্ছেন। সময় কম থাকায় দ্রুত শেষ করতে হয় শুটিং।

    এবারের গল্পের নাম লুংপো। গল্পটি তিনি লিখেছেন সত্যজিৎ রায়, এডগার অ্যালান পো, মঁপাসা প্রমুখের বিভিন্ন গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। ছবির চরিত্রে রয়েছে জীবন্ত সব পুতুল।

    চলছে ছবির শুটিং

    ছবির বিষয়: এক আফ্রিকান সাধুর দেওয়া জীবন্ত পুতুল নিয়ে দুই বন্ধু বিভিন্ন কীর্তি। ছবির গল্প ইতিমধ্যেই বাচ্চাদের মধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছে। গল্প ও চিত্রনাট্য – দুই-ই অভিরূপের লেখা।

    জলপাইগুড়িতে জেসি বোস লেনের বাসিন্দা অভিরূপ গঙ্গোপাধ্যায়। দু’বছর আগে তিনি পলিটেকনিক পাশ করেছেন। ছেলেবেলা থেকেই সিনেমা বানানোর প্রবল ইচ্ছা। মাধ্যমিক পাশের পর ছোট্ট একটি ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে ছবি বানান, সেটাই হাতেখড়ি। এটি তাঁর ষষ্ঠ ছায়াছবি হতে চলেছে।

    ছবিতে আফ্রিকান সাধুর চরিত্রে অভিনয় করছেন রাজ। তিনি পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র হলেও ছোট থেকেই অভিনয়ের ইচ্ছা ছিল। এখন সেটাই পূরণ করছেন অভিরূপের ছবিতে অভিনয় করে। পাগলা দাশুর মতো এই ছবিও দারুণ হিট হবে বলে তিনি মনে করছেন।

    অভিরূপ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এবারে আমার ইচ্ছা ছিল ডুয়ার্স-সহ বিভিন্ন এলাকায় পুরো ইউনিট নিয়ে গিয়ে শুটিং করার কিন্তু না পেয়েছি কোনও স্পনসর, না পেয়েছি প্রোডিউসার। অগত্যা একটু একটু করে জমানো হাজার পাঁচেক টাকা দিয়ে শহরের আশপাশেই শুটিং সারতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও দামি ক্যামেরা ভাড়া করে শুটিং করতে পারলাম না। মেকআপও নিজেদেরই করা।”

    টাকার অভাবে পেশাদার ক্যামেরার বদলে শুটিং করতে হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ক্যামেরায়। অন্যান্য গ্যাজেট জোগাড় করেছেন বন্ধুদের থেকে চেয়ে-চিন্তে। টাকা জোগাড় করতে পারলে অনেক বেশি পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পারতেন বলে তিনি মনে করেন।

    বনের ফুল বনেই ঝরে যায়, তার সৌন্দর্য এড়িয়ে যায় চোখ, গন্ধ হারিয়ে যায় বনেই। অভিরূপ ওরফে জিকো বনের ফুল, তবে তিনি হারিয়ে যাবেন না বলেই আশা করছেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁদের আশা অভিরূপের প্রতিভা বিকশিত হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More