মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

অর্জুনের দুর্গে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ভাটপাড়ার ১২জন কাউন্সিলর ফিরলেন তৃণমূলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাটপাড়া পুরসভা দখলে নিতে বিশেষ পরিশ্রম করতে হয়নি বিজেপিকে। অর্জুন সিং-এর দাপটে জোড়াফুল বদলে রাতারাতি পদ্মফুল হয়ে গিয়েছিল। লোকসভা ভোটে দাঁড়ানোর সময়ে নিজে চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে সেই চেয়ারে বসিয়ে এসেছিলেন ভাইপো সৌরভ সিংকে। কিন্তু হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, গারুলিয়া, বনগাঁর মতো অর্জুন-দুর্গের ভাটপারা পুরসভাও হাতে রাখতে পারল না বিজেপি। বুধবার দুপুরেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া ভাটাপাড়ার ১২জন কাউন্সিলর ফিরে এলেন তৃণমূলে।

এদিন দল বদলে বিজেপিতে যাওয়া কাউন্সিলরদের তৃণমূল ওয়াপসি হল। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পাণিহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের উপস্থিতিতে। পুজোর আগেই জ্যোতিপ্রিয়বাবু হুঙ্কার ছেড়ে বলেছিলেন, “পুজোর পরে ভাটপাড়াও ওদের হাত থেকে নিয়ে নেব। বেশি দিন ভয়-ভীতির রাজনীতি চলে না।” দেখা গেল নভেম্বরের শুরুতে অপারেশন ভাটপাড়া প্রায় সেরে ফেললেন তৃণমূল নেতারা।

ভাটপাড়া পুরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৫টি। অর্জুন সিং সাংসদ হওয়ার পর কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মৃত্যু হয়েছে ভীম সিং নামের এক কাউন্সিলরের। একটি ওয়ার্ড দখলে রয়েছে বামেদের। ফলে এই মুহূর্তে বোর্ড গড়তে দরকার ১৭ জন কাউন্সিলরের সমর্থন। পাঁচজন কাউন্সিলর দল বদল করেননি। তাঁরা তৃণমূলেই রয়ে গিয়েছিলেন। এদিন ফিরে এলেন ১২জন। ফলে যে সংখ্যা দরকার বোর্ড গড়ার জন্য সেটা হয়ে গিয়েছে বলে এটিএমবিশ্বাসী শাসকদল। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, সবটা গুছিয়ে নিয়েই অনাস্থা আনা হবে ভাটপাড়ায়।

এই ঘটনা নিয়ে অবশ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি ব্যারাকপুরের দাপুটে সাংসদ। তবে বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেই বলছেন, তৃণমূল ভয় দেখিয়ে এই দল বদল করাচ্ছে। কিন্তু তাতে ওঁদের লাভ কিছু হবে না। খাতায় কলমে ওঁরা তৃণমূলে গেলেও, কাজ করবেন বিজেপির হয়েই।

Comments are closed.