রবিবার, জুন ১৬

মুখ্যমন্ত্রী এসএসকেএম ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘সব স্বাভাবিক’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালে দাঁড়িয়ে  মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ছিল, “চার ঘণ্টার মধ্যে কাজে না যোগ দিলে হস্টেল থেকে বার করে দেওয়া হবে।” তিনি যখন হাসপাতালে ছিলেন তখন স্লোগান দেওয়া, বিক্ষোভ প্রদর্শন চলেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, দুপুর তিনটে থেকে এসএসকেম হাসপাতালের ছবিটা যেন হঠাৎ পালটে গিয়েছে। এমার্জেন্সিতে ঢুকছে রোগী। প্রতিটি বিভাগে শুরু হয়েছে পরিষেবা। উর্দিতে এবং সাদা পোশাকে পুলিশে ছয়লাপ হাসপাতাল। উঠোনে তৈরি হওয়া জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থান মঞ্চও ফাঁকা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কারা এই পরিষেবা দিচ্ছেন? জুনিয়র ডাক্তাররা কোথায় গেলেন?

জানা গিয়েছে, এসএসকএম-এর জুনিয়র ডাক্তাররা রওনা দিয়েছেন এনআরএস-এর দিকে। কাজে যোগ দেননি তাঁরা। তাহলে কি সিনিয়র চিকিৎসকরা কাজ করছেন? ভিতরে কাউকে ঢুকতে না দেওয়া হলেও বলা হচ্ছে ‘সব স্বাভাবিক।’

বারুইপুর থেকে অসহ্য পেটে যন্ত্রণা নিয়ে গতকাল এসএসকেএম-এ এসেছিলেন শেখ হাসিম। ফিরে গিয়েছিলেন। ফের আজ এসেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এই তো খানিক্ষণ আগে ডাক্তারবাবু দেখে গেলেন!”

এক দিকে উত্তাল আন্দোলন, অন্য দিকে ‘স্বাভাবিক পরিষেবা’। অনেকেই মেলাতে পারছেন না ছবিটা। পর্যবেক্ষকদের মতে, হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর ধমকেই কাজ হয়েছে। সিনিয়র চিকিৎসকরা দায়িত্ব নিয়েছেন স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার। আর তা না হলে, অন্য কোনও বড় ঝড়ের পূর্বাভাস।

বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত খবর, আন্দোলনে অনড় থাকবেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এনআরএস-এর এক জুনিয়র চিকিৎসক দ্য ওয়াল-কে বলেন, “আমরা র‍্যাঙ্ক করে পড়তে এসেছি। মুখ্যমন্ত্রী বলে দিলেই হস্টেল খালি হবে না। আমরা কাজে যোগ দেব না। মুখ্যমন্ত্রীকে এসে এখানে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।”

এর মধ্যেই সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে গণইস্তফা দিয়েছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা। আন্দোলনে নেমে পড়েছেন নার্সরাও। এক দিকে যখন এই ছবি, অন্য দিকে এসএসকেএম-এ ‘সব স্বাভাবিক।’

Comments are closed.