মহারাষ্ট্রে মীমাংসা, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জল্পনার অবসান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরে। এই প্রথম ঠাকরে পরিবার থেকে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। শরদ পওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে দীর্ঘ দু’ঘণ্টার বৈঠক শেষে জানিয়ে দেওয়া হল, মহারাষ্ট্রের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।

    ভোটের ফলাফল বেরনোর পরে প্রায় একমাস কেটে গেলেও, দড়ি টানাটানি থামছিল না মারাঠা মুলুকে। ভোটের আগে বিজেপি-শিবসেনা জোট বেঁধে লড়লেও, ফল প্রকাশের পরে অর্ধেক মেয়াদ মুখ্যমন্ত্রিত্ব দাবি করে শিবসেনা। কিন্তু ছোট শরিকের সেই প্রস্তাবে কোনও ভাবেই রাজি হয়নি বিজেপি। দুই দলের দড়ি টানাটানিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন শিবসেনার প্রতিনিধি অরবিন্দ সাওয়ান্ত। তারপরে শিবসেনাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সংসদের বিরোধী আসনে।

    ততদিনে এনসিপির সঙ্গে কথা শুরু করে দেয় শিবসেনা। কিন্তু ২৮৮ আসনের বিধানসভায় শিবসেনা (৫৬টি আসন) ও এনসিপির (৫৪) পক্ষে সরকার গড়া সম্ভব ছিল না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও দল সরকার গড়তে না পারায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয় মহারাষ্ট্রে।

    আরও পড়ুন: শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপির জোট জনাদেশের বিরোধী, আর্জি সুপ্রিম কোর্টে

    বিজেপিকে (১০৫) বাইরে রেখে সরকার গড়ার জন্য কংগ্রেসের (৪৪) সমর্থন দরকার ছিল শিবসেনার। হিন্দুত্ববাদী দল হিসাবে পরিচিত শিবসেনাকে সমর্থন করার ব্যাপারে কেরল থেকে আপত্তি আসে কংগ্রেসে। ফলে সরকার গড়ার নিয়ে ক্রমেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়। একের পর এক জল্পনা তৈরি হয়েত থাকে। বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে নতুন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ উঠে আসতে থাকে। কখনও জল্পনা শোনা যায় এনসিপির সমর্থন নিয়ে সরকার গড়বে বিজেপি, কখনও শোনা যায় বিজেপির জোটে ফিরছে শিবসেনা। তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় সব জল্পনার অবসান হয়।

    কাল রাতেই ঠিক হয়, শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেসের নতুন জোটের নাম হচ্ছে মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাড়ি (মহারাষ্ট্র উন্নয়ন ফ্রন্ট)। এই জোটের নেতৃত্বে শিবসেনাই থাকছে।

    শুক্রবার সকালেই শিবসেনা সূত্রে জানা যায়, মহারাষ্ট্রে পাঁচ বছরের জন্য শিবসেনাকে মুখ্যমন্ত্রী পদ দেওয়ার ব্যাপারে রাজি হয়েছে এনসিপি ও কংগ্রেস। তবে উদ্ধব ঠাকরে নিজে মুখ্যমন্ত্রী হতে আগ্রহী নন। তখন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে উঠে আসে শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত ও সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্তের নাম।

    শিবসেনার কট্টর মনোভাবের জন্যই তাদের সঙ্গে জোটে প্রথম থেকে সায় ছিল না কেরল কংগ্রেসের একাংশের। কারণ শিবসেনার সঙ্গে জোট করে সরকার গড়লে ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে কংগ্রেসকে। তাই শিবসেনার সঙ্গে জোটে যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না কংগ্রেস। যদিও বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যেতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা দলনেত্রী সনিয়া গান্ধীকে জানান, শিবসেনাকে সমর্থন করা যেতে পারে। কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়া মাত্রই আর সময় নষ্ট করতে চায়নি শিবসেনা।

    বৃহস্পতিবার দিনভর জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠক করে শিবসেনা। গভীর রাতে পওয়ারের বাড়িতে পৌঁছে যান উদ্ধব ঠাকরে। শুক্রবারও সারা দিন আলোচনা হয় ক্ষমতাবিন্যাস নিয়ে। সন্ধ্যায় ঘোষণা হয় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম।

    বালাসাহেব ঠাকরে শিবসেনা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পরিবারের কেউ কোনও দিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তবে এই প্রথম ভোটে লড়ে জেতেন বালাসাহেবের পৌত্র তথা উদ্ধবের পুত্র আদিত্য। ভোটের ফল প্রকাশের পরে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথমে তাঁর নামই ভাসিয়ে দিয়েছিল শিবসেনা। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উঠে আসে উদ্ধবের নাম।

    নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগেই তাকে আক্রমণ করতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি।

    আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে তিন দলের সুবিধাবাদী জোট ছ’-আট মাসের বেশি টিকবে না, বললেন গড়কড়ি

    কাল শনিবারই বিধায়কদের সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করতে চলেছে শিবসেনা। রবিবার বা সোমবারই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More