বুধবার, আগস্ট ২১

দু’জন মহিলা-সহ মোট তিন সন্দেহভাজন জঙ্গির ছবি প্রকাশ করল শ্রীলঙ্কা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টার সানডের সকালে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় এই প্রথম তিন জন সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করল শ্রীলঙ্কা প্রশাসন। অভিযোগ, এরা তিন জনেই মুসলিম মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট তথা আইসিস-এর সঙ্গে জড়িত। ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় এদের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে।

যে তিন জঙ্গির ছবি এ দিন শ্রীলঙ্কা প্রশাসন প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে দু’জনেই মহিলা। তরুণীও বলা যেতে পারে। এদের মধ্যে একজনের নাম ফতিমা লতিফা, অন্যজনের নাম পুলাস্তিনি রাজেন্দ্রন ওরফে সারা। সন্দেহভাজন অপর যুবকের নাম আইউহাম সাদিক আবদুল হক।

গত রবিবার ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের সকালে শ্রীলঙ্কার দু’টি গীর্জা ও কলম্বো শহরের তিনটি পাঁচ তারা হোটেলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসবাদীরা। তাদের মধ্যে আত্মঘাতী জঙ্গিরাও ছিল। ঘটনার জন্য স্থানীয় মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন তওহিদ জামাতের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠলেও পরে জানা যায় ষড়যন্ত্রের পরিধি অনেক বড়। দ্বীপ রাষ্ট্রে হামলার নেপথ্যে রয়েছে কুখ্যাত মৌলবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেট। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় ও আর্থিক মদতেই শ্রীলঙ্কায় হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা।

দুই আত্মঘাতী জঙ্গির মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাইও ছিল। তাদের নাম ইমসাথ আহমেদ ইব্রাহিম ও ইলহাম আহমেদ ইব্রাহিম। কলম্বোয় অর্থ ও প্রভাবের দিক থেকে তারা ধনী পরিবারের সন্তান বলা চলে। আবার আরেক আত্মঘাতী জঙ্গি লন্ডনে পড়াশুনা করেছে। তার নাম আবদুল লতিফ জামিল মহম্মদ। শহুরে শিক্ষিত সমাজের ছেলেমেয়ে এ ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শ্রীলঙ্কা প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

কলম্বোর শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে বলা হচ্ছে, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে জোরকদমে তদন্ত চলছে। দেশে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নয়াদিল্লির একটি সূত্রের দাবি, তদন্তে কলম্বোকে সাহায্য করছে সাউথ ব্লক। কূটনৈতিক সূত্রে বলা হচ্ছে, শ্রীলঙ্কায় যে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা হতে পারে সে ব্যাপারে কলন্বোকে আগেই সতর্ক করেছিল নয়াদিল্লি। আগে সতর্ক হলে হয়তো এই বিপর্যয় অনেকটাই এড়ানো যেত।

তবে কূটনীতিকদের বক্তব্য, শ্রীলঙ্কার সমস্যা শুধু সেই দ্বীপ রাষ্ট্রের সমস্যা নয়। গোটা উপ মহাদেশের নিরাপত্তা সংকটাপন্ন। ফলে সব কটি প্রতিবেশি রাষ্ট্রই গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে এখন সাহায্য করছে কলম্বোকে। এমনকি তদন্তে সাহায্য করছে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারাও।

Comments are closed.