Latest News

চন্ডীগড়ে এসেছিলেন পড়াশুনো করতে, সেই মেয়েই এখন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবনের বাঁকের খবর কেউ জানে না! জীবন কোনসময় কোনদিকে মোড় নেবে, কেই বা বলতে পারে। সে কোনও ক্ষেত্রে হতে পারে।

বাংলাদেশের এক মেধাবী মেয়ে পড়াশুনো করতে এসেছিলেন চন্ডীগড়ে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন টেক্সটাইল ডিজাইনিং নিয়ে। পরিবারের সবাই ভেবেছিলেন ভারতেই হয়তো কোনও কোম্পানিতে তিনি উচ্চপদে কাজ করবেন। কিন্তু কোথায় কী!

বাংলাদেশের মাকসুদা আক্তার ভেবেছিলেন অন্যকিছুই। তিনি পড়াশুনোর পাশে ভর্তি হন একটি জিমে। সেখানে শরীরচর্চাকে রীতিমতো ভালবেসে ফেলেন। শরীর চর্চাই হয়ে ওঠে তাঁর বেঁচে থাকার আনন্দ, তাঁর একমাত্র প্রেরণা।

চন্ডীগড়ের নানা স্থানে তিনি বডি বিল্ডিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। হন প্রথমও। নিজের মনকে মাকসুদা বলেন, আরও উঁচুতে উঠতে হবে। বাড়ির শালোয়ার কামিজ পরা সাধারণ মেয়ে থেকে মাকসুদা হয়ে ওঠেন পেশীবহুল এক সুন্দর রমণী। সব থেকে প্রাসঙ্গিক, মুম্বইয়ের অ্যামেচার ওপেন টু অল বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপে মাকসুদা ছেলেদের হারিয়ে হন প্রথম স্থানাধিকারী।

সেই পথ চলা শুরু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। তারপর বাংলাদেশের বডি বিল্ডিংয়ের মুখ হয়ে উঠেছেন। ঢাকা শহরে মাকসুদার জিম সেন্টার রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দেশে অংশ নিয়ে পদকও নিয়ে এসেছেন।

এমনকি বাংলাদেশে যেখানে মেয়েদের হাঁটু দেখানো নিয়েও সমাজের চাপে পড়তে হয়। সেখানে মাকসুদা স্ক্রিন টাইট গেঞ্জি পরে বহাল তবিয়তে নিজের শরীর প্রদর্শন করছেন। তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘আমি সমাজের শৃঙ্খল ভাঙতে চেয়েছি, যাতে মেয়েরাও স্বাধীনভাবে নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পারে।’’

আর্নল্ড সোয়ার্জেনেজারের প্রিয় ভক্ত এই মাকসুদা, তিনি চান ওই হলিউড কিংবদন্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। যদিও পাশাপাশি মিশরে গিয়ে বডি বিল্ডিং আসরে অংশ নিয়ে দেশের জন্য পদক আনতে চান। সেই লক্ষ্যে আরও নিবিড় অনুশীলনে নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের লৌহ মানবী।

 

 

You might also like