Latest News

অভিশপ্ত বছরে হৃদয় শূন্য করে বিদায় পিকে থেকে চুনী, মারাদোনা থেকে রোসিদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদায় ২০২০। স্বাগত ২০২১।

করোনা কালের এই বছরটি যেন শেষ হতে চাইছিল না। প্রতিটি দিন আতঙ্কে কেটেছে। জুন মাস নাগাদ মনে হয়েছিল এবার যদি ছয় মাসে বছর শেষ হতো, কেমন হতো! ভাবনাটাই ঠিক নয়, কিন্তু আতঙ্কে এর থেকে বেশি কিছু মনে হয়নি।

করোনার প্রভাব শেষ হয়নি, হয়তো ২০২১-এ নতুন রূপে হাজির হবে। কিন্তু আমরা এত নেতিবাচক হবো কেন! আশার আলো দেখে শুরুই করি না নতুন একটি বর্ষ।

জানি না কী অপেক্ষা করছে, হয়তো ভালই হবে। কেউ কী আর গত বছরের এই পয়লা জানুয়ারি ভেবেছিলেন করোনা পৃথিবী আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। তাই শুভেচ্ছা, শুভকামনার পাশেও একটা আশঙ্কার ফালি মেঘ থেকেই যায়।

২০২০ সালের বিশে আমরা প্রতিদিন বিক্ষত হয়েছি। শেষ দিনে এসেও মনে হয়েছে কোনও তারা খসে পড়বে না তো আকাশ থেকে! করোনায় অনেকেই আক্রান্ত হননি, তাঁদের মৃত্যু হয়তো স্বাভাবিকভাবেই এসেছে, তবুও ভাইরাসের প্রভাবকে অস্বীকার করা যায়নি।

আবার অনেকে এর প্রভাবেও চলে গিয়েছেন, তবুও মৃত্যু মৃত্যুই। তার কী আর নতুনভাবে ব্যাখ্যা হয়, হচ্ছে না। ফেলে আসা বছরে বেদনার তালিকা দীর্ঘই। আরও একবার ফিরে তাকানো হল দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে।

দিয়েগো মারাদোনা : বিশ্ব ক্রীড়া মানচিত্রে ২৫ নভেম্বর দিনটি কালো দিন হিসেবে চিরকালীন শোক বহন করবে। ভারতীয় সময়ে পৌনে দশটা নাগাদ যেন বিস্ফোরণ ঘটেছিল। দিয়েগো মারাদোনা নেই, এটা ভাবতেই পারেননি সারা বিশ্ব। স্তম্ভিত ফিরতেও সময় নিয়েছিল, এই বর্ষটা এই মহাতারাকেও ছিনিয়ে নিয়েছে।

মারাদোনা প্রজন্ম বহন করতেন। তিনি মানে একজন ফুটবলার নন, তিনি মানে একটি জাতি, দেশ, একটি মহাদেশ, তিনি আটলান্টিক ফুটবলের, তিনি গ্রহানুপুঞ্জ ক্রীড়াকাশের। ৬০ বছর বয়সে তিনি চলে গিয়েছেন হৃদরোগে। তাঁর মৃত্যু নিয়েও রহস্য।

পি কে বন্দ্যোপাধ্যায় : পি কে মানেই ছিল বাংলা ফুটবলের এক চলমান ইতিহাস। তিনি চলে যাওয়া মানে বাংলা ফুটবল অনাথ হয়ে যাওয়া। পিকে চলে গিয়েছেন ২০ মার্চ, ৮৪ বছর বয়সে। অনেকদিন ধরেই ভুগছিলেন, হাসপাতাল ও ঘর যাওয়া-আসা ছিলই, যাওয়ার আগে অবশ্য তাঁর জীবনচরিত প্রকাশ পেয়েছে, ওটাই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পিকে-র স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে।

চুনী গোস্বামী : পিকে যদি বাংলা ফুটবল তথা ভারতীয় ফুটবলের কর্ণ হন, তা হলে অর্জুন অবশ্যই চুনী গোস্বামী। চুনী মানেই ক্যারিশমা, তিনি একাধারে ফুটবল ও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছেন, দুটিরই অধিনায়ক হয়েছিলেন। টেনিস, হকিও খেলতে পারতেন।

চুনী চলে গিয়েছেন ফেলে আসা বছরের এপ্রিল মাসে, পিকে যাওয়ার এক মাসের মধ্যেই। নিঃশব্দে, নীরবে থেকে প্রস্থান এই মহানায়কের, তিনি আদতেই বাংলা ফুটবলের উত্তম কুমার ছিলেন।

বলবীর সিং: ভারতীয় হকি ক্ষেত্রের তিনি ছিলেন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বলবীর সিং সিনিয়র ছিলেন তিনটি অলিম্পিক সোনা জয়ী দলের সদস্য। তিনিও চলে গিয়েছেন এই বছরেই, ২৫ মে। তিনি ছিলেন দেশের হকির কিংবদন্তি। তাঁকে দেখে কত প্রজন্মের তারকারা উঠে এসেছে।

পাওলো রোসি : ৯ ডিসেম্বর চলে গিয়েছেন ইতালি ফুটবলের রাজপুত্র পাওলো রোসিও। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের নায়ক, তিনি একাই প্রায় ইতালিকে বিশ্ব সেরা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুও করোনায় নয়, তিনি কালের নিয়মে চলে গিয়েছেন আকাশের ধ্রুবতারা হয়ে।

কোবে ব্রায়ান্ট : তখনও সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের প্রভাব ভয়ঙ্কর হয়নি। তার আগেই বিমান দুর্ঘটনায় চলে গিয়েছিলেন আমেরিকার এনবিএ লিগ খ্যাত নামী বাস্কেটবল তারকা কোবে ব্রায়ান্ট, তিনি চলে গিয়েছিলেন তাঁর বড় মেয়েকে নিয়েই, অভিশপ্ত সেই দিনটি ছিল ২৬ জানুয়ারি, কোবের বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।

আলেজান্দ্রো সাবেল্লা : এই আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল মেসিদের নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন প্রাক বিশ্বকাপের প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে। সেবার বিপক্ষ ছিল ভেনেজুয়েলা। মেসিরা সেবার সব মিলিয়ে কলকাতায় ছিলেন পাঁচদিন। সাবেল্লা আবার ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন।

চিরকালের বামপন্থী এই কোচ ফুটবলের কৌশল গড়ার হেডস্যার ছিলেন। তিনিও চলে গেলেন বছর শেষের একেবারে শেষ মাসেই, ৮ ডিসেম্বর।

ডিন জোন্স : অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের একজন প্রকৃত অর্থের নামী তারকা ছিলেন, তিনিও কিংবদন্তি। জোন্সের সময় হয়নি যাওয়ার, বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। জোন্সকে শুধু রান দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে, তিনি ছিলেন ক্রিকেটের একজন বড় সেবক, তিনি ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষক হিসেবেও সুনাম অর্জন করেছিলেন। জোন্স চলে গেলেন ২৪ সেপ্টেম্বর। তাঁর স্মৃতিতে মেলবোর্ন টেস্ট শুরুর দিন তাঁর স্ত্রী উইকেটে বেল ব্যবহার করে খেলা শুরু করেছিলেন।

চেতন চৌহান : ভারতের প্রাক্তন ওপেনার তথা বিজেপি সাংসদের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসেই। তিনি দিল্লির বাসিন্দা ছিলেন। খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পরে দিল্লি ক্রিকেট প্রশাসনে এসেছিলেন। তারপর তিনি রাজনীতিতে নামেন। চেতনেরও চলে যাওয়ার সময় হয়নি মোটেই, চলে গিয়েছেন গত ১৬ আগস্ট।

You might also like