Latest News

মিলনবীথি ক্লাবের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কলকাতা ফুটবল লিগে পদার্পন করছে মতুয়া সম্প্রদায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা ময়দানে পা রাখতে চলেছে মতুয়া সম্প্রদায়। তারা কলকাতা লিগ খেলবে মিলনবীথি সম্প্রদায়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে। এই নিয়ে বৃহস্পতিবার তারা আইএফএ-তে নাম নথিভুক্ত করেছে। কারণ একটি গোষ্ঠী হিসেবে তারা আইএফএ-র রেজিস্ট্রেশন পেত না, তাতে নিয়মে আটকে যেত। সেই হিসেবে মিলনবীথি ক্লাবের সঙ্গে তারা লিগে অংশ নেবে।

গত সোমবার এই নিয়ে ময়দানের এরিয়ান তাঁবুতে বৈঠক হয় মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলনবীথি ক্লাব কর্তাদের। তারপরেই চূড়ান্ত হয় তারা কলকাতা লিগ খেলবে মতুয়া মিলনবীথি ক্লাব নামে। ময়দানের এই প্রাচীন ক্লাবটি কলকাতা ফুটবল লিগের প্রথম ডিভিশনে খেলছে।  মতুয়া সম্প্রদায়ের পক্ষে বড়মা বীনাপানি দেবীর নাতি শান্তনু ঠাকুর ক্লাবের পরিচালন সমিতিতে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

এদিন আইএফএ সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এই খবর স্বীকার করে জানিয়েছেন, ‘‘আমরা চাই বাংলা ফুটবলের উন্নতি। মতুয়া সম্প্রদায় কলকাতা ফুটবলে এলে ভালই হবে, তাদের সারা বাংলায় প্রায় দুই কোটির বেশি সমর্থক রয়েছেন। গতবছর লকডাউনের আগেই তারা লিগ খেলতে চায় বলে আমাদের জানিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়নি, আমরা ফুটবল কমিটি ও সেইসঙ্গে গভর্নিং বডিতে আলোচনা করে সেই অনুমতি দিয়েছি।’’

মতুয়াদের সঙ্গে ফুটবলের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। তাদের সম্প্রদায়ের শীর্ষ ব্যক্তিদের অনেকেরই নানা ফুটবল শিবির রয়েছে। তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে সেগুলি চালান। আইএফএ-র কাছে তারা ভবিষ্যতের রূপরেখা জানাতে গিয়ে সেই বিষয়গুলি তুলে ধরেছিলেন। এমনকি এও জানিয়েছে, তারা আগামীদিনে একক কোনও দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়।

যদিও একক দল হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে গেলে তাদের নিজস্ব ক্লাব ও মাঠ দেখাতে হবে। সেটি নেই মতুয়াদের, সেই হিসেবেই তারা হাওড়ার মিলনবীথি ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের এই কাজে সহায়তা করেছেন ময়দানের পোড়খাওয়া কোচ রঘু নন্দী। তিনি মিলনবীথি ক্লাবের কোচ রয়েছেন দীর্ঘদিন। রঘু নন্দী ময়দানের এমন একজন কোচ, তাঁকে ময়দানে ‘টেন ইন ওয়ান’ কোচ বলা হয়, মানে তিনি একইসঙ্গে দশটি দলের কোচিংয়ের কাজে যুক্ত।

বাংলায় রাজনৈতিক সুবিধে আদায়, ভোটের বৈতরণী পেরতে মতুয়া সম্প্রদায়কে কাজে লাগিয়েছেন নানা দলের নেতৃবৃন্দই। কিন্তু ফুটবলের ময়দানে মতুয়া সম্প্রদায়ের যোগদান আচমকা কেন, সেই নিয়ে ময়দানে বিস্তর কথাও হচ্ছে। যদিও তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি নিছকই ফুটবলের প্রতি ভালবাসার কারণেই যোগদান, এর মধ্যে অন্য কোনও উদেশ্য নেই।

এর আগে বাংলার বিভিন্ন দলের নেতারা কলকাতা ময়দানে নানা ক্লাবের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অরূপ বিশ্বাসরা টালিগঞ্জ অগ্রগামী দলের সঙ্গে নিজেদের জড়ান। সুজিত বসু অধিগ্রহণ করেন তালতলা দীপ্তি সংঘকে, সেটি তিনি নেওয়ার পর হয় শ্রীভূমি ক্লাব। কিন্তু কোনও সম্প্রদায়ের পক্ষে কোনও ক্লাবকে অধিগ্রহণ করছে, এমন ঘটনা ময়দানে নেই।

 

 

You might also like