Latest News

‘সাজানো নাটক’ শেষে সভায় সিদ্ধান্ত, আইএফএ সচিব পদে বহাল থাকছেন জয়দীপই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাস তিনেক আগে যখন আইএফএ সচিব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, সেইসময় নাটক মঞ্চস্থই ছিল। তিনি সচিব পদ থেকে চলে যাওয়ার গল্প ফাঁদবেন, তারপর তাঁকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ হবে, তিনি একটু সকলের কাছে নায়ক হবেন, আবার যে কে সেই, সেই পুরনো ব্যক্তিই ফিরবেন আইএফএ-র গুরুত্বপূর্ণ পদে।

এই তিন মাসের মধ্যে বাংলা ফুটবলের কোনও উন্নতি হবে না, যা গত একবছরেও হয়নি। বলা হয়েছিল, নবকলেবর সংস্থার অফিস হয়ে নতুন স্বপ্ন দেখা যাবে, কিন্তু করোনা কালের মধ্যে বাংলার ফুটবল নিয়ে কোনও দিশাই চোখে পড়েনি। একের পর এক কমিটি হয়েছে, কিন্তু নিট ফল জিরো।

জুনিয়র লিগে ইস্টবেঙ্গল ভিনরাজ্যের অবৈধ ফুটবলার খেলিয়েছিল। এই নিয়ে রাগ দেখিয়েছিলেন জয়দীপ। তিনি সংস্থার প্রেসিডেন্ট মুখ্যমন্ত্রীর দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ঘটনায় দায়ী করেন। বিদায়ী সচিব জানিয়েছিলেন, ‘‘অজিত বাবু আইএফএ-র শীর্ষ পদে, আবার একই সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের কর্মসমিতিতে থাকেন কী করে? তাঁকে একটা পদ থেকে সরলেই আমি আইএফএ-তে ফিরব।’’

তিনি স্বার্থের সংঘাত অভিযোগ তোলেন অজিত বাবুর বিরুদ্ধে। কিন্তু বিষয়টি নিস্পত্তি হল না, অথচ জয়দীপকে একটু অনুরোধ করতেই তিনি ফের সচিব পদে বসে পড়লেন, এতেই ময়দানের একাংশ ‘আগে থেকে তৈরি গল্প’ বলে উল্লেখ করছেন!

ক্লাবগুলিকে দেখানো গেল, সচিব ও সভাপতির মধ্যে বিস্তর ঝামেলা রয়েছে, কিন্তু ভেতরে সব এক, এটাই ময়দানের রাজনীতি। মধ্যে থেকে এই পর্বে ‘নায়ক’ হলেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি তথা আইএফএ-র চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত। তিনি আদতে জয়দীপের গডফাদার, কিন্তু তিনি প্রথম প্রথম এই ব্যাপারে কোনও মুখ খোলেননি।

সবাই যখন তাঁকে উদ্ধারকর্তা হিসেবে দেখতে চাইলেন, তিনি জয়দীপকে ফিরে আসার অনুরোধ করতেই তাঁর বাধ্য ছেলেও সেটি পালন করতে প্রস্তুত হয়ে গেলেন। এমনকি জয়দীপ যে এত ইস্তফার নাটক করলেন, আদতে তা যে কিছুই নয়, সেটি তাঁর পদত্যাগপত্রই প্রমাণ করছে। কেননা তিনি চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে সরে যেতে চান’।

সোমবার আইএফএ অফিসে ২২ জন গভর্নিং বডির সদস্যের সামনে জয়দীপকে প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান ‘অনুরোধ’ করতেই জয়দীপ বাধ্য ছেলের মতো জানালেন, বাংলার ফুটবলের স্বার্থে আমরা ফের কাজ করতে প্রস্তুত।

কেন কী কারণে এত গড়িমসি হল সচিবকে ফেরাতে, সেটি নিয়ে কথা ওঠেনি। শুধু প্রেসিডেন্ট অজিত বাবু বলেন, ‘‘জানি না এত দেরি হল কেন, আমি এই ব্যাপারে বলতে পারব না।’’

 

 

You might also like