Latest News

‘জয় কৃষ্ণ’! ফিজি তারকাকে দেখে নিজের কথা মনে পড়ছে উল্লসিত ব্যারেটোর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবুজ মেরুন সমর্থকরাও এখন বলছেন, ‘জয় কৃষ্ণ’!

তিনটি ম্যাচে মোহনবাগানের গোল চারটি, তার মধ্যে তাঁরই গোল তিনটি। একটা সময় জোস রামিরেজ ব্যারেটো এরকমভাবে সবুজ মেরুনের জয় তুলে আনতেন। তিনি বিশেষজ্ঞের ভূমিকায় থেকে সুদূর ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রে থেকেও বলছেন, রয়কে দেখে আমার কথা মনে পড়ছে!

ব্যারেটো ও মোহনবাগান সমার্থক হয়ে গিয়েছেন। দলের খেলা থাকলে তিনিও আবেগ ধরে রাখতে পারেন না। কতবার দল আটকে গিয়েছে, একেবারে শেষে এসে ব্যারেটো জিতিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। সেটাই যেন মনে পড়ছে তাঁর।

রয় কৃষ্ণের ক্ষেত্রেও সমানভাবে কথাগুলি খেটে যাচ্ছে। দল আটকে যাচ্ছে, তিনি বৈতরণী পার করছেন। বৃহস্পতিবারও তাই হয়েছে ম্যাচে। মনেই হয়নি ম্যাচটি জিতবে এটিকে-মোহনবাগান। কারণ খেলার মধ্যে সেইভাবে পরিকল্পনা ছিল না। বারবার ওড়িশা গোল মুখে এসে আক্রমণ থেমে গিয়েছে।

সবাই যখন ধরে নিয়েছিলেন, তিন নম্বর ম্যাচে এসে হাবাসের দল পয়েন্ট হারাবে। ঠিক সেইসময় ঈগলের মতো স্পট জাম্প মেরে হেডে গোল করে গিয়েছেন কৃষ্ণ, তাও একেবারে ৯৪ মিনিটে, ইনজুরি টাইমের শেষ সময়ে।

তিরির লম্বা সেন্টার ধরে হেডে সন্দেশ বল বাড়িয়েছিলেন বক্সে থাকা কৃষ্ণের দিকে, তিনিও বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের টপকে হেডেই বল জালে রাখেন। কতটা সুযোগসন্ধানি তিনি, সেটাই ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন ব্যারেটো। তিনি বলেছেন, ‘‘এটাই একটা স্ট্রাইকারের সবচেয়ে বড় গুণ, তিনি কোনওসময় বলের থেকে চোখ সরাবেন না। রয় কৃষ্ণ সেটাই করে গিয়েছে।’’

ব্যারেটো মানেই একটা মিথ, যাঁর নামে কথ্যই ছিল ময়দানি স্লোগান, ‘ব্যারেটো মানেই ভরসা, ব্যারেটো মানেই জয়!’ সেটাই যেন ফিরছে ফিজি তারকার হাত ধরে। কয়েকবছর আগে সোনি নর্ডির ক্ষেত্রেও সেই কথা বলা হতো। কিন্তু সোনি সেই চাপটা নিতে পারেননি, যে কারণে তিনি চোট পেয়ে ছিটকে যেতেন।

এটিকে-মোহনবাগানের খেলায় বিরতির আগে তেমন প্রাণ থাকছে না, কিন্তু তারা খেলায় ফিরছে দ্বিতীয়ার্ধে। সেইসময় রয় কৃষ্ণও ঘুরছেন শ্যাডো স্ট্রাইকার হিসেবে। তিনি মাঝেমধ্যে খেলা থেকে হারিয়ে যান, বিপক্ষ দল সেইসময় তাঁকে মার্কিং করাও ছেড়ে দেয়, আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগান ওই বিদেশী তারকা।

এদিন খেলা শেষেও তিনি নির্লিপ্ত। ভাবলেশহীনভাবে জানিয়েছেন, ‘‘দলের রক্ষণভাগ আজও গোল হজম করেনি, তাই আমরাও মুক্ত মনে খেলতে পেরেছি। সেই হিসেবেই বলতে পারি, আমাদের খেলা তেমন ভাল না হলেও যেটি দরকার, সেই গোল এসেছে অনেক পরে, যাই হোক ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। সামনে সোমবার জামশেদপুর এফসি-র বিপক্ষে আমাদের আরও ভাল খেলতে হবে।’’

দলের রক্ষণভাগের সেরা অস্ত্র তিরিই গোলের পাস বাড়িয়েছিলেন সন্দেশের উদেশ্যে, তা থেকে ওই ডিফেন্ডার বলটি বাড়ালে সেই থেকেই সোনার গোল ফিজি স্ট্রাইকারের।

 

You might also like